Dhaka , রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অনুষ্ঠিত হলো ‘দি মেট্রোপলিটান খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিঃ-এর বার্ষিক রিট্রিট ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান সৌদি আরবের কাছে চিঠি বাংলাদেশের: দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বিষয়ে ৬ প্রশ্ন জাহাজভাঙা শিল্পকে লাল থেকে কমলা শ্রেণিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত, ঝুঁকিতে পরিবেশ ও শ্রমিক দুর্গোৎসবে উৎসবমুখর ঢাকা, পূজামণ্ডপে ভক্ত-দর্শনার্থীদের ঢল সরকারপ্রধানের কড়া বার্তা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে ভ্যাটিকানে ফিরেছেন পোপ লিও চতুর্দশ ইসরায়েলের নির্বাচনে ‘কিংমেকার’ কে এই আব্বাস, নেতানিয়াহুকেও সরিয়েছিলেন তিনি ‘বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে ছুটে এসে দেখি, রিসোর্টটি দাউ দাউ করে জ্বলছে’ রিসোর্টের দোতলা থেকে লাফ দিয়ে বাঁচলেন আশিকুল, পুড়ে মারা গেলেন স্ত্রীসহ পরিবারের ৬ জন কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন, চারজনের মরদেহ উদ্ধার, আহত কয়েকজন হাসপাতালে

সৌদি আরবের কাছে চিঠি বাংলাদেশের: দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বিষয়ে ৬ প্রশ্ন

রিপোর্ট: নীড় সংবাদ ডেস্ক

মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের অপরাধ কী ছিল, দণ্ড কীভাবে কার্যকর হয়েছে, মরদেহ এখন কোথায় এবং বিচারে তাঁদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন কি না, এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় পাঠানো এক কূটনৈতিক পত্রে এসব প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

 

 

১৯ অক্টোবর জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৈঠকে তিনি কূটনৈতিক পত্রটি হস্তান্তর করেন।

 

 

জানা গেছে, মক্কা অঞ্চলে বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১৪ অক্টোবর। বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এ প্রসঙ্গে কনস্যুলেট সংক্ষেপে ছয়টি বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব তা জানানোর অনুরোধ করেছে।

 

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া চিঠিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই নাগরিকের দণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে ছয়টি প্রশ্ন করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে অপরাধের ধরন ও প্রকৃতি কী, কবে ও কোথায় তা ঘটেছিল এবং তাঁদের কবে গ্রেপ্তার করা হয়। বাংলাদেশের দুই নাগরিককে শাস্তিদানের বিষয়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সত্যায়িত রায়ের কপি। মৃত্যুদণ্ড কীভাবে কার্যকর হয়েছে। এটি কি প্রকাশ্যে তলোয়ারের আঘাতে শিরশ্ছেদ, নাকি অন্য কোনো পদ্ধতিতে হয়েছে।

 

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এরপর প্রশ্ন তোলা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর দুজনের মরদেহ কোথায় আছে? মরদেহ কি বাংলাদেশে পাঠানো হবে, নাকি সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে। তদন্ত ও বিচার চলাকালে দুই অপরাধীর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না এবং দুজনের কেউ আইনি সহায়তা চেয়েছিলেন কি না।

 

ঢাকায় সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, মৃত্যুদণ্ডের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে ঢাকায় কিংবা জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। বিশেষ করে বিচারের সময় দুজনের আইনি প্রতিনিধিত্ব ছিল কি না, তা মিশন নিশ্চিত নয়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সৌদি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাংলাদেশকে কারাবন্দী ও দণ্ডিত বাংলাদেশিদের তালিকা দেয়। সেপ্টেম্বরের তালিকায় এই দুজনের নাম ছিল। একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ‘ব্যভিচার’, অন্যজনের ‘আইসিটি’ বা তথ্যপ্রযুক্তি–সংক্রান্ত অপরাধ। কিন্তু তালিকায় শাস্তির তথ্য ছিল না। ফলে মৃত্যুদণ্ডের কথা না জেনে তাঁদের কনস্যুলার সেবা দিতে পারেনি বাংলাদেশ।

 

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদ কমপ্লেক্সে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে পবিত্রতা লঙ্ঘনের দায়ে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। তালিকার অভিযোগ আর এই বিবৃতি কীভাবে মেলে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কনস্যুলেটের প্রথম প্রশ্নটি তাই শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, অসংগতি পরিষ্কার করার চেষ্টাও।

 

উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় প্রশ্ন

১৯ অক্টোবরের বৈঠকে জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির কাছে জানতে চান, কেন তথ্য অসম্পূর্ণ রাখা হলো। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ডের তথ্য জানা থাকলে মিশন তাঁদের সুরক্ষায় উদ্যোগ নিতে পারত। এ ধরনের মামলায় সাধারণত আইনি সহায়তা, আপিল ও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির গত সপ্তাহে ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতাশার। সৌদি আরব থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন আদালত ও আপিল আদালতের বিচার শেষে এ মাসে দণ্ড কার্যকর হয়েছে।

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১৪ ঘন্টা আগে

সৌদি আরবের কাছে চিঠি বাংলাদেশের: দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বিষয়ে ৬ প্রশ্ন

Update Time : ১৪ ঘন্টা আগে

মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের অপরাধ কী ছিল, দণ্ড কীভাবে কার্যকর হয়েছে, মরদেহ এখন কোথায় এবং বিচারে তাঁদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন কি না, এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় পাঠানো এক কূটনৈতিক পত্রে এসব প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

 

 

১৯ অক্টোবর জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৈঠকে তিনি কূটনৈতিক পত্রটি হস্তান্তর করেন।

 

 

জানা গেছে, মক্কা অঞ্চলে বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১৪ অক্টোবর। বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এ প্রসঙ্গে কনস্যুলেট সংক্ষেপে ছয়টি বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব তা জানানোর অনুরোধ করেছে।

 

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া চিঠিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই নাগরিকের দণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে ছয়টি প্রশ্ন করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে অপরাধের ধরন ও প্রকৃতি কী, কবে ও কোথায় তা ঘটেছিল এবং তাঁদের কবে গ্রেপ্তার করা হয়। বাংলাদেশের দুই নাগরিককে শাস্তিদানের বিষয়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সত্যায়িত রায়ের কপি। মৃত্যুদণ্ড কীভাবে কার্যকর হয়েছে। এটি কি প্রকাশ্যে তলোয়ারের আঘাতে শিরশ্ছেদ, নাকি অন্য কোনো পদ্ধতিতে হয়েছে।

 

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এরপর প্রশ্ন তোলা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর দুজনের মরদেহ কোথায় আছে? মরদেহ কি বাংলাদেশে পাঠানো হবে, নাকি সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে। তদন্ত ও বিচার চলাকালে দুই অপরাধীর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না এবং দুজনের কেউ আইনি সহায়তা চেয়েছিলেন কি না।

 

ঢাকায় সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, মৃত্যুদণ্ডের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে ঢাকায় কিংবা জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। বিশেষ করে বিচারের সময় দুজনের আইনি প্রতিনিধিত্ব ছিল কি না, তা মিশন নিশ্চিত নয়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সৌদি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাংলাদেশকে কারাবন্দী ও দণ্ডিত বাংলাদেশিদের তালিকা দেয়। সেপ্টেম্বরের তালিকায় এই দুজনের নাম ছিল। একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ‘ব্যভিচার’, অন্যজনের ‘আইসিটি’ বা তথ্যপ্রযুক্তি–সংক্রান্ত অপরাধ। কিন্তু তালিকায় শাস্তির তথ্য ছিল না। ফলে মৃত্যুদণ্ডের কথা না জেনে তাঁদের কনস্যুলার সেবা দিতে পারেনি বাংলাদেশ।

 

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদ কমপ্লেক্সে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে পবিত্রতা লঙ্ঘনের দায়ে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। তালিকার অভিযোগ আর এই বিবৃতি কীভাবে মেলে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কনস্যুলেটের প্রথম প্রশ্নটি তাই শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, অসংগতি পরিষ্কার করার চেষ্টাও।

 

উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় প্রশ্ন

১৯ অক্টোবরের বৈঠকে জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির কাছে জানতে চান, কেন তথ্য অসম্পূর্ণ রাখা হলো। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ডের তথ্য জানা থাকলে মিশন তাঁদের সুরক্ষায় উদ্যোগ নিতে পারত। এ ধরনের মামলায় সাধারণত আইনি সহায়তা, আপিল ও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির গত সপ্তাহে ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতাশার। সৌদি আরব থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন আদালত ও আপিল আদালতের বিচার শেষে এ মাসে দণ্ড কার্যকর হয়েছে।