Dhaka , মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বড়দিন উপলক্ষে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী মিরপুরের কালশীতে এক পুলিশকে ঘিরে ধরে মারধর করেন কয়েকজন, জানালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ পরলোকগত ভক্তবৃন্দের স্মরণ দিবস: বিশ্বাস, প্রার্থনা ও চিরন্তন আশার এক বিশেষ দিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প কি কংগ্রেসে (সংসদে) নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন? রাজধানীতে ৭ কোম্পানির অধীনে চালু হলো ৮৬১ বাস, চলবে সাত রুটে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আবার অবরোধ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ নেতানিয়াহুর পতন আসন্ন, জোট ছাড়ার ইঙ্গিত দিলো এক দল ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলে নতুন নীতিমালা, প্রজ্ঞাপন জারি

মিরপুরের কালশীতে এক পুলিশকে ঘিরে ধরে মারধর করেন কয়েকজন, জানালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা

রিপোর্ট: নীড় সংবাদ ডেস্ক

রাজধানীর মিরপুরের কালশীতে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে আজ মঙ্গলবার সকালে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় কয়েকজন এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে মারধর করেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তাঁরা ওই পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় ফেলে দিয়েছেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে কালশী সড়কে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সুপারশপের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ওই পুলিশ সদস্যের নাম মো. সাইমন। তিনি পল্লবী থানা থেকে সংঘর্ষস্থলে যাচ্ছিলেন।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, ওই পুলিশ সদস্য কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগে চিকিৎসাধীন।

ওই রাস্তার কাছের একটি বাসার বারান্দা থেকে পুলিশ সদস্যকে মারধরের ওই ভিডিও ধারণ করেন এক নারী। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই নারী বলেন, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছিল। এ সময় মিরপুর-১২ নম্বরে একটি সড়কে কয়েকজন পুলিশ সদস্য বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে তাঁরা আন্দোলনকারীদের মাঝখানে পড়ে যান।

ওই নারী বলেন, আন্দোলনকারীরা চারদিক থেকে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ছিলেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা সরে গিয়ে আশপাশে অবস্থান নেন। তবে একজন পুলিশ সদস্যকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ঘিরে মারধর শুরু করে। এ সময় আশপাশে আর কোনো পুলিশকে দেখা যায়নি।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই নারী বলেন, ‘হেরা পুলিশডারে মাটিত ফালাই দিসে। একজনে বন্দুক ছিনাই নিয়া রাস্তায় ফিইক্কা মাইরা ফালাই দিসে। পরে অনেকে মিইলা ইচ্ছামতো পিডাইসে। ওগোর মধ্যেই আবার কিছু লোকজন পুলিশরে বাঁচাই দিয়া ওই দিক (মিরপুর-১১ মেট্রোর দিকে) পাঠাই দিসে।’

ঘটনাস্থলের সুপারশপের এক কর্মীও পুলিশ সদস্যকে মারধরের বিষয়টি দেখেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি ওই পুলিশ সদস্যকে মাটিতে ফেলে মারধর শুরু করেন। পরে তাঁরা দোকানের শাটার বন্ধ করে দোতলায় চলে যান। এরপর কী ঘটেছে, তা তাঁরা আর দেখতে পারেননি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পিওএম (দক্ষিণ) বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) তৌহিদুল আরিফ সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে তাঁরা এখনো কিছু জানেন না। খোঁজ নিয়ে পরে এ বিষয়ে কথা বলতে পারবেন।

সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা প্রায় সোয়া ১১টা পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের সংঘর্ষ চলে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। যান চলাচল দুই পাশেই স্বাভাবিক।

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। গত শনি ও রোববার শ্রমিকেরা মিরপুর-১০, ১১, ১২ নম্বরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। রোববার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

গতকাল সোমবারও মিরপুরের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। কয়েকটি স্থানে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। আজ আবার মিরপুরে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকেরা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১০ ঘন্টা আগে

মিরপুরের কালশীতে এক পুলিশকে ঘিরে ধরে মারধর করেন কয়েকজন, জানালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা

Update Time : ১০ ঘন্টা আগে

রাজধানীর মিরপুরের কালশীতে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে আজ মঙ্গলবার সকালে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় কয়েকজন এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে মারধর করেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তাঁরা ওই পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় ফেলে দিয়েছেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে কালশী সড়কে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সুপারশপের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ওই পুলিশ সদস্যের নাম মো. সাইমন। তিনি পল্লবী থানা থেকে সংঘর্ষস্থলে যাচ্ছিলেন।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, ওই পুলিশ সদস্য কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগে চিকিৎসাধীন।

ওই রাস্তার কাছের একটি বাসার বারান্দা থেকে পুলিশ সদস্যকে মারধরের ওই ভিডিও ধারণ করেন এক নারী। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই নারী বলেন, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছিল। এ সময় মিরপুর-১২ নম্বরে একটি সড়কে কয়েকজন পুলিশ সদস্য বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে তাঁরা আন্দোলনকারীদের মাঝখানে পড়ে যান।

ওই নারী বলেন, আন্দোলনকারীরা চারদিক থেকে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ছিলেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা সরে গিয়ে আশপাশে অবস্থান নেন। তবে একজন পুলিশ সদস্যকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ঘিরে মারধর শুরু করে। এ সময় আশপাশে আর কোনো পুলিশকে দেখা যায়নি।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই নারী বলেন, ‘হেরা পুলিশডারে মাটিত ফালাই দিসে। একজনে বন্দুক ছিনাই নিয়া রাস্তায় ফিইক্কা মাইরা ফালাই দিসে। পরে অনেকে মিইলা ইচ্ছামতো পিডাইসে। ওগোর মধ্যেই আবার কিছু লোকজন পুলিশরে বাঁচাই দিয়া ওই দিক (মিরপুর-১১ মেট্রোর দিকে) পাঠাই দিসে।’

ঘটনাস্থলের সুপারশপের এক কর্মীও পুলিশ সদস্যকে মারধরের বিষয়টি দেখেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি ওই পুলিশ সদস্যকে মাটিতে ফেলে মারধর শুরু করেন। পরে তাঁরা দোকানের শাটার বন্ধ করে দোতলায় চলে যান। এরপর কী ঘটেছে, তা তাঁরা আর দেখতে পারেননি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পিওএম (দক্ষিণ) বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) তৌহিদুল আরিফ সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে তাঁরা এখনো কিছু জানেন না। খোঁজ নিয়ে পরে এ বিষয়ে কথা বলতে পারবেন।

সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা প্রায় সোয়া ১১টা পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের সংঘর্ষ চলে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। যান চলাচল দুই পাশেই স্বাভাবিক।

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। গত শনি ও রোববার শ্রমিকেরা মিরপুর-১০, ১১, ১২ নম্বরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। রোববার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

গতকাল সোমবারও মিরপুরের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। কয়েকটি স্থানে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। আজ আবার মিরপুরে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকেরা।