রাড্ডা গুঁড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে কারা, অনুসন্ধানে যা বেরিয়ে এল
রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় হামলাকারীদের জড়ো করা, দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহ এবং এক্সক্যাভেটর আনার সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় কয়েকজনের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া গেছে; যারা সেখানকার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। হামলার আগে তাদের কার্যালয়ের সামনে দুর্বৃত্তরা জড়ো হয়। পরে সেখান থেকে গিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় লোকজন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ আরও কয়েকটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে হামলার আয়োজনের তথ্য পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙিয়ে দেয় হামলাকারীরা। এই সমিতির কার্যক্রমের সঙ্গেও স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁরা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের (মিষ্টি) ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। ফেরদৌসী আহমেদ অবশ্য এই হামলার ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি করেছেন।
তিন দিন ধরে দেশব্যাপী আলোচিত এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে হামলার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের কাউকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি।
অন্যদিকে এই ঘটনায় নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় গতকাল রোববার শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানটিতে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হামলা হয়। ২০০ থেকে ২৫০ জন বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। সেখানকার দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট কর হয়। এক্সক্যাভেটর বা ভেকু দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর সমিতির নাম লেখা দুটি সাইনবোর্ড ও দুটি ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়। তাতে বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলেও হামলা ঠেকাতে বা দুর্বৃত্তদের আটক করার কোনো চেষ্টাই করেনি বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

















