Dhaka , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রোনালদোর বিদায় এত সহজে হতে দেবে না পর্তুগাল কংগ্রেসে হারের মাধ্যমে কি ট্রাম্পের শেষের শুরু হয়ে গেল বড়দিন উপলক্ষে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী মিরপুরের কালশীতে এক পুলিশকে ঘিরে ধরে মারধর করেন কয়েকজন, জানালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ পরলোকগত ভক্তবৃন্দের স্মরণ দিবস: বিশ্বাস, প্রার্থনা ও চিরন্তন আশার এক বিশেষ দিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প কি কংগ্রেসে (সংসদে) নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন? রাজধানীতে ৭ কোম্পানির অধীনে চালু হলো ৮৬১ বাস, চলবে সাত রুটে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আবার অবরোধ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

আজ ঈদুল আজহা

রিপোর্ট: নীড় সংবাদ ডেস্ক

সাম্য, ত্যাগ ও মানবিকতার বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবার এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমানদের জীবনে বছরে দুটি প্রধান আনন্দ-উৎসবের একটি ঈদুল আজহা।

 

 

আজ ২৮ মে, ১০ জিলহজ বৃহস্পতিবার সারা দেশে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে উদ্‌যাপিত হচ্ছে কোরবানির ঈদ। আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর মেলবন্ধনে আবারও মুখর হয়ে উঠেছে বাঙালির চিরায়ত পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের বন্ধন। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি ও পথের কষ্টকে তুচ্ছজ্ঞান করে মানুষ পৌঁছে গেছে প্রিয়জনের কাছে। এই ত্যাগের মধ্য দিয়েই পাওয়া মিলনের আনন্দ ঈদ উৎসবের রংকে আরও গভীর করেছে।

 

 

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। এই দিনে কি ধনী কি নির্ধন—সবাই যার যার সাধ্যমতো নতুন, নয়তো পরিষ্কার কাপড় পরে, গায়ে আতর-সুগন্ধি মেখে মসজিদ কিংবা ঈদগাহে এক কাতারে দাঁড়াবেন। নামাজ শেষে বুকে বুক মিলিয়ে ছড়িয়ে দেবেন ভ্রাতৃত্বের বার্তা।

 

 

এরপর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের আশায় সামর্থ্য অনুযায়ী দেওয়া হবে পছন্দের পশু কোরবানি। প্রত্যেক আর্থিক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি দিল না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে।’

 

 

হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হয়। ঈদুল ফিতরের মতো এ ঈদে আগের দিন চাঁদ দেখা নিয়ে ঔৎসুক্য থাকে না; ১০ দিন আগেই ঈদের তারিখ নির্ধারিত হয়ে যায়। সে অনুযায়ী পশু কেনা থেকে শুরু করে গ্রামের বাড়িতে ফেরা—সব ধরনের প্রস্তুতি আগেভাগেই সেরে নেন মানুষ।

 

 

এবার এমন সময় ঈদ এসেছে, যখন হাওরে ফসলহানি হয়েছে। হামে আক্রান্ত হয়ে কোল খালি হয়েছে বিপুলসংখ্যক মায়ের। মূল্যস্ফীতির চাপ দীর্ঘ হচ্ছে, আয়-ব্যয়ের টানাপোড়েনে আছে সাধারণ মানুষ। তবু প্রতিকূল বাস্তবতার ভেতরেও থেমে থাকে না উৎসব। সামর্থ্য-অসামর্থ্যের সীমা মেনে মানুষ খোঁজে মিলন, ভাগাভাগি আর স্বস্তির ক্ষণ।

 

 

আমাদের দেশে সাধারণত গরু, ছাগল বা মহিষ কোরবানি দেওয়া হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য দেশে দুম্বা, ভেড়া ও উট কোরবানি দেওয়া হয়ে থাকে। আমাদের এ অঞ্চলে শত বছর বা তারও আগে সাধারণত বকরি বা ছাগল কোরবানি দেওয়া হতো। এ জন্য এই ঈদের পরিচিতি ছিল ‘বকরি ঈদ’ বা ‘বকরিদ’। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর এ অঞ্চলে গরু কোরবানি দেওয়া বাড়তে থাকে।

 

 

কোরবানি হয়ে গেলে মাংস তিন ভাগ করে যিনি কোরবানি করবেন, তিনি নেবেন এক ভাগ, বাকি দুই ভাগ আত্মীয়স্বজন ও গরিব-দুঃখীর মধ্যে বিলিয়ে দেবেন। এভাবে বণ্টন করতে ইসলাম উৎসাহিত করেছে। সমাজে ন্যায় ও সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্যই ধর্মের এই আহ্বান।

 

 

কেউ একা একটি পশু কোরবানি দেন, কেউ আবার অন্যদের সঙ্গে মিলে ভাগে কোরবানি করেন। সামর্থ্যের তারতম্য থাকলেও কোরবানির আনন্দ ও দায়িত্ব সবার মধ্যেই ভাগ হয়ে যায়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০১:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

আজ ঈদুল আজহা

Update Time : ০১:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

সাম্য, ত্যাগ ও মানবিকতার বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবার এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমানদের জীবনে বছরে দুটি প্রধান আনন্দ-উৎসবের একটি ঈদুল আজহা।

 

 

আজ ২৮ মে, ১০ জিলহজ বৃহস্পতিবার সারা দেশে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে উদ্‌যাপিত হচ্ছে কোরবানির ঈদ। আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর মেলবন্ধনে আবারও মুখর হয়ে উঠেছে বাঙালির চিরায়ত পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের বন্ধন। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি ও পথের কষ্টকে তুচ্ছজ্ঞান করে মানুষ পৌঁছে গেছে প্রিয়জনের কাছে। এই ত্যাগের মধ্য দিয়েই পাওয়া মিলনের আনন্দ ঈদ উৎসবের রংকে আরও গভীর করেছে।

 

 

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। এই দিনে কি ধনী কি নির্ধন—সবাই যার যার সাধ্যমতো নতুন, নয়তো পরিষ্কার কাপড় পরে, গায়ে আতর-সুগন্ধি মেখে মসজিদ কিংবা ঈদগাহে এক কাতারে দাঁড়াবেন। নামাজ শেষে বুকে বুক মিলিয়ে ছড়িয়ে দেবেন ভ্রাতৃত্বের বার্তা।

 

 

এরপর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের আশায় সামর্থ্য অনুযায়ী দেওয়া হবে পছন্দের পশু কোরবানি। প্রত্যেক আর্থিক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি দিল না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে।’

 

 

হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হয়। ঈদুল ফিতরের মতো এ ঈদে আগের দিন চাঁদ দেখা নিয়ে ঔৎসুক্য থাকে না; ১০ দিন আগেই ঈদের তারিখ নির্ধারিত হয়ে যায়। সে অনুযায়ী পশু কেনা থেকে শুরু করে গ্রামের বাড়িতে ফেরা—সব ধরনের প্রস্তুতি আগেভাগেই সেরে নেন মানুষ।

 

 

এবার এমন সময় ঈদ এসেছে, যখন হাওরে ফসলহানি হয়েছে। হামে আক্রান্ত হয়ে কোল খালি হয়েছে বিপুলসংখ্যক মায়ের। মূল্যস্ফীতির চাপ দীর্ঘ হচ্ছে, আয়-ব্যয়ের টানাপোড়েনে আছে সাধারণ মানুষ। তবু প্রতিকূল বাস্তবতার ভেতরেও থেমে থাকে না উৎসব। সামর্থ্য-অসামর্থ্যের সীমা মেনে মানুষ খোঁজে মিলন, ভাগাভাগি আর স্বস্তির ক্ষণ।

 

 

আমাদের দেশে সাধারণত গরু, ছাগল বা মহিষ কোরবানি দেওয়া হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য দেশে দুম্বা, ভেড়া ও উট কোরবানি দেওয়া হয়ে থাকে। আমাদের এ অঞ্চলে শত বছর বা তারও আগে সাধারণত বকরি বা ছাগল কোরবানি দেওয়া হতো। এ জন্য এই ঈদের পরিচিতি ছিল ‘বকরি ঈদ’ বা ‘বকরিদ’। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর এ অঞ্চলে গরু কোরবানি দেওয়া বাড়তে থাকে।

 

 

কোরবানি হয়ে গেলে মাংস তিন ভাগ করে যিনি কোরবানি করবেন, তিনি নেবেন এক ভাগ, বাকি দুই ভাগ আত্মীয়স্বজন ও গরিব-দুঃখীর মধ্যে বিলিয়ে দেবেন। এভাবে বণ্টন করতে ইসলাম উৎসাহিত করেছে। সমাজে ন্যায় ও সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্যই ধর্মের এই আহ্বান।

 

 

কেউ একা একটি পশু কোরবানি দেন, কেউ আবার অন্যদের সঙ্গে মিলে ভাগে কোরবানি করেন। সামর্থ্যের তারতম্য থাকলেও কোরবানির আনন্দ ও দায়িত্ব সবার মধ্যেই ভাগ হয়ে যায়।