Dhaka , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রোনালদোর বিদায় এত সহজে হতে দেবে না পর্তুগাল কংগ্রেসে হারের মাধ্যমে কি ট্রাম্পের শেষের শুরু হয়ে গেল বড়দিন উপলক্ষে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী মিরপুরের কালশীতে এক পুলিশকে ঘিরে ধরে মারধর করেন কয়েকজন, জানালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ পরলোকগত ভক্তবৃন্দের স্মরণ দিবস: বিশ্বাস, প্রার্থনা ও চিরন্তন আশার এক বিশেষ দিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প কি কংগ্রেসে (সংসদে) নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন? রাজধানীতে ৭ কোম্পানির অধীনে চালু হলো ৮৬১ বাস, চলবে সাত রুটে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আবার অবরোধ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে ভাইরাল মহিষটি কি আসলেই বিরল প্রজাতির?

রিপোর্ট: নীড় সংবাদ ডেস্ক

সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা কিংবা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদের সুবাদে মানুষের আগ্রহের কারণে মহিষটি এখন বলতে গেলে রীতিমতো ‘সেলিব্রিটি’। ঈদের ছুটিতে ঢাকার চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে এই অ্যালবিনো মহিষটি।

এ বছর ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর বাজারে ব্যাপকভাবে আলোচিত মহিষটিকে ঈদের আগের দিনই নেওয়া হয় সরকারি হেফাজতে। মহিষটিকে কোরবানি না করে সংরক্ষণ করার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরবর্তীতে চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয় এটিকে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এক বিবৃতিতে বলেন, অ্যালবিনো মহিষটি বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের ইতিহাসে ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা হওয়ায় সংরক্ষণের জন্য জাতীয় চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, অ্যালবিনো মহিষ কি আসলেই বিরল? চিড়িয়াখানায় মহিষটি রাখার বিষয়ে কী বলছে কর্তৃপক্ষ?

প্রাণিসম্পদ গবেষকরা বলছেন, অ্যালবিনো আসলে মহিষের কোনো জাত নয়, এটি প্রাণীর একটি জেনেটিক বৈশিষ্ট্য মাত্র।

এক্ষেত্রে জিনগত পরিবর্তনের ফলে প্রাণীর দেহে মেলানিনের অভাবে এমনটি হয়। এই অবস্থাকে অ্যালবিনিজম বলা হয়, যা যে-কোনো জাতের মহিষে বিরলভাবে দেখা যায়, বলছেন গবেষকরা।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের, অ্যানিম্যাল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের প্রধান ড. মো. মুনির হোসেন বলছেন, “অ্যাবিনিজম সত্যিকার অর্থে এক ধরনের জেনেটিক ডিজঅর্ডার বা ক্যারেক্টার, এটা বিরল।”

মহিষটি কি আসলেই বিরল?

বাংলাদেশে ঈদুল আজহার আগে থেকেই আলোচনায় ছিল- ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে ভাইরাল মহিষটি বিরল প্রজাতির কি না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশে অ্যালবিনো মহিষ খুব বেশি দেখা যায় না। কেবল ব্যক্তিগত কিছু খামারেই অ্যালবিনো মহিষ লালন-পালন করা হয়।

বাংলাদেশ মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলছেন, সাদা বা গোলাপি রঙের এই ধরনের মহিষ মূলত দেশের বাইরে থেকেই ব্যক্তি উদ্যোগের খামারিরা এনে থাকেন।

“এটা খুব বেশি দেখা যায় না, আমাদের এখানেও নাই- ব্যক্তি উদ্যোগের কিছু খামারে আপনি এই ধরনের মহিষ দেখতে পাবেন,” বলেন তিনি।

সম্প্রতি আলোচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প নামের মহিষটি নারায়ণগঞ্জের যে খামার থেকে কেনা হয়েছিল, সেখানে একই ধরনের মোট ছয়টি মহিষ ছিল।

রাবেয়া অ্যাগ্রোর কর্মচারী মাসুদুর রহমান বিবিসি বাংলাকে জানান, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে পরিচিতি পাওয়া এই মহিষটিসহ ছয়টি অ্যালবিনো মহিষ ছিল তাদের কাছে। ঈদের আগে সবকটিই বিক্রি হয়ে গেছে।

তিনি জানান, তারা রাজশাহীর সিটি হাট থেকে এই মহিষগুলো কিনেছিলেন, এগুলোর অরিজিন সম্পর্কে, অর্থাৎ কোথায় জন্ম বা কোন জায়গা থেকে এসেছে সে ব্যাপারে তাদের কোনো ধারণা নেই।

এর বাইরে, ব্যক্তি মালিকানাধীন আরও খামারে এরকম মহিষ রয়েছে বলেও বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছে।

তবে প্রকৃতপক্ষে অ্যালবিনো বলতে মহিষের কোনো জাত নেই বলেই জানাচ্ছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, অ্যালবিনিজম মূলত এক ধরনের জেনেটিক ডিজঅর্ডার বা বৈশিষ্ট্য।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের, অ্যানিম্যাল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিকস্ বিভাগের প্রধান ড. মো. মুনির হোসেন বলছেন, মহিষ সাধারণত কালো বা কিছুটা ধূসর বর্ণের হয়ে থাকে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাদা বা হালকা গোলাপি রঙের মহিষও দেখা যায়।

এক্ষেত্রে জেনেটিক মিউটেশন এর কথা বলছেন এই গবেষক। যেখানে একটি প্রাণীর শারীরিক গঠন এবং বর্ণসহ নানা ধরনের বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন হতে পারে।

তার ভাষ্য মতে, এটি এক ধরনের জেনেটিক ডিজঅর্ডার যেখানে লিউসিসটিক, অ্যালবাইনো, ডাইলুটেড ফেনোটাইপসহ বেশ কয়েকটি ধরনের হতে পারে। এই তিন ক্ষেত্রেই কোনো পশু বা পাখির ত্বক, চুল বা পশমের রং ফ্যাকাশে বা ঘোলাটে হয়।

মি. হোসেন বলছেন, “টাইরোসিনেস নামক এক ধরনের এনজাইম, যেটা শরীরে মেলানিন তৈরি করে, এর মিউটেশনটা যদি ফাদার-মাদার দুজনই ক্যারি করে এবং যদি রিসেসিভ কন্ডিশনে আসে তাহলে এই ধরনের ক্যারেকটারিসটিকস আমরা দেখতে পাই। অ্যালবাইনিজমটা আসলে রেয়ার,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

এই পরিবর্তনটি শুধু মহিষ নয়, নানা ধরনের প্রাণী মধ্যেই হতে পারে বলে জানান এই গবেষক।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছেন, “মাত্র মহিষের ক্ষেত্রে নায়, সাপ, ইঁদুর, কিছু কিছু সরীসৃপ প্রাণী, এমনকি পাখির মধ্যেও অনেক সময় অ্যালবিনিজমের ক্যারেক্টার দেখা যায়।”

মহিষের মধ্যে এই ধরনের পরিবর্তন বাংলাদেশে কতটা দেখা যায়, এমন প্রশ্নের জবাবে মি. হোসেন বলছেন, বেশ কিছু ধরনের অ্যালবাইনিজম দেখা গেলেও সাদা বা গোলাপি বর্ণের অ্যালবাইনিজম বেশ বিরল।

“পার্শিয়াল অ্যালবাইনিজম, টেম্পারেচার সেনসিটিভ অ্যালবাইনিজম আমরা দেখেছি বা কিছুটা ভ্যারিয়েন্ট যেটা- অকুলোকিউটেনিয়াস অ্যালবাইনিজম সেটাও হয়ত টুকটাক দেখা যায়, তবে এই গোলাপি বর্ণের যে অ্যাবাইনিজটা সেটা রেয়ার,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট বা বিএলআরআই এর গবেষকরা বলছেন, ভারতীয় উপমহাদেশ, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই ধরনের মহিষ বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশে অ্যালবিনো মহিষ খুবই বিরল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএলআরআই এর একজন গবেষক বিবিসি বাংলাকে বলছেন, “অ্যালবিনো মহিষ মূলত আলাদা মহিষের কোনো জাত নয়। এটি জিনগত পরিবর্তনের কারণে হয়, ফলে মেলানিন তৈরি হয় না।”

ওই গবেষক জানান, সম্প্রতি মিয়ানমার বা অন্য কোথাও থেকে কিছু অ্যালবিনো মহিষ খামারিরা বাংলাদেশে এনেছেন।

এছাড়া বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট বা বিএলআরআই এর মহিষ গবেষণা খামারেও কয়েকটি অ্যালবিনো মহিষ রয়েছে যেগুলো দেশি মহিষ থেকে হয়েছে।

মহিষের জাত উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে গবেষণা কার্যক্রম আরও বাড়ানোর কথা বলছেন গবেষকরা।

তারা বলছেন, পৃথিবীর অনেক দেশে দুধের জোগান মূলত মহিষ থেকেই আসে। গবেষণার মাধ্যমে নতুন জাত উদ্ভাবন বা মহিষ লালন-পালন বাড়ানো যায়, তাহলে দেশের দুগ্ধশিল্পে বড়ো ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে মহিষ।

“মহিষের মিল্ক প্রডাকশন অনেক বেশি। এর দুধে ফ্যাট ও প্রোটিনের মাত্রাও বেশি থাকে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের, অ্যানিম্যাল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিকস্ বিভাগের প্রধান ড. মো. মুনির হোসেন।

সংবাদ বিবিসি বাংলা
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে ভাইরাল মহিষটি কি আসলেই বিরল প্রজাতির?

Update Time : ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা কিংবা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদের সুবাদে মানুষের আগ্রহের কারণে মহিষটি এখন বলতে গেলে রীতিমতো ‘সেলিব্রিটি’। ঈদের ছুটিতে ঢাকার চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে এই অ্যালবিনো মহিষটি।

এ বছর ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর বাজারে ব্যাপকভাবে আলোচিত মহিষটিকে ঈদের আগের দিনই নেওয়া হয় সরকারি হেফাজতে। মহিষটিকে কোরবানি না করে সংরক্ষণ করার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরবর্তীতে চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয় এটিকে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এক বিবৃতিতে বলেন, অ্যালবিনো মহিষটি বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের ইতিহাসে ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা হওয়ায় সংরক্ষণের জন্য জাতীয় চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, অ্যালবিনো মহিষ কি আসলেই বিরল? চিড়িয়াখানায় মহিষটি রাখার বিষয়ে কী বলছে কর্তৃপক্ষ?

প্রাণিসম্পদ গবেষকরা বলছেন, অ্যালবিনো আসলে মহিষের কোনো জাত নয়, এটি প্রাণীর একটি জেনেটিক বৈশিষ্ট্য মাত্র।

এক্ষেত্রে জিনগত পরিবর্তনের ফলে প্রাণীর দেহে মেলানিনের অভাবে এমনটি হয়। এই অবস্থাকে অ্যালবিনিজম বলা হয়, যা যে-কোনো জাতের মহিষে বিরলভাবে দেখা যায়, বলছেন গবেষকরা।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের, অ্যানিম্যাল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের প্রধান ড. মো. মুনির হোসেন বলছেন, “অ্যাবিনিজম সত্যিকার অর্থে এক ধরনের জেনেটিক ডিজঅর্ডার বা ক্যারেক্টার, এটা বিরল।”

মহিষটি কি আসলেই বিরল?

বাংলাদেশে ঈদুল আজহার আগে থেকেই আলোচনায় ছিল- ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে ভাইরাল মহিষটি বিরল প্রজাতির কি না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশে অ্যালবিনো মহিষ খুব বেশি দেখা যায় না। কেবল ব্যক্তিগত কিছু খামারেই অ্যালবিনো মহিষ লালন-পালন করা হয়।

বাংলাদেশ মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলছেন, সাদা বা গোলাপি রঙের এই ধরনের মহিষ মূলত দেশের বাইরে থেকেই ব্যক্তি উদ্যোগের খামারিরা এনে থাকেন।

“এটা খুব বেশি দেখা যায় না, আমাদের এখানেও নাই- ব্যক্তি উদ্যোগের কিছু খামারে আপনি এই ধরনের মহিষ দেখতে পাবেন,” বলেন তিনি।

সম্প্রতি আলোচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প নামের মহিষটি নারায়ণগঞ্জের যে খামার থেকে কেনা হয়েছিল, সেখানে একই ধরনের মোট ছয়টি মহিষ ছিল।

রাবেয়া অ্যাগ্রোর কর্মচারী মাসুদুর রহমান বিবিসি বাংলাকে জানান, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে পরিচিতি পাওয়া এই মহিষটিসহ ছয়টি অ্যালবিনো মহিষ ছিল তাদের কাছে। ঈদের আগে সবকটিই বিক্রি হয়ে গেছে।

তিনি জানান, তারা রাজশাহীর সিটি হাট থেকে এই মহিষগুলো কিনেছিলেন, এগুলোর অরিজিন সম্পর্কে, অর্থাৎ কোথায় জন্ম বা কোন জায়গা থেকে এসেছে সে ব্যাপারে তাদের কোনো ধারণা নেই।

এর বাইরে, ব্যক্তি মালিকানাধীন আরও খামারে এরকম মহিষ রয়েছে বলেও বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছে।

তবে প্রকৃতপক্ষে অ্যালবিনো বলতে মহিষের কোনো জাত নেই বলেই জানাচ্ছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, অ্যালবিনিজম মূলত এক ধরনের জেনেটিক ডিজঅর্ডার বা বৈশিষ্ট্য।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের, অ্যানিম্যাল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিকস্ বিভাগের প্রধান ড. মো. মুনির হোসেন বলছেন, মহিষ সাধারণত কালো বা কিছুটা ধূসর বর্ণের হয়ে থাকে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাদা বা হালকা গোলাপি রঙের মহিষও দেখা যায়।

এক্ষেত্রে জেনেটিক মিউটেশন এর কথা বলছেন এই গবেষক। যেখানে একটি প্রাণীর শারীরিক গঠন এবং বর্ণসহ নানা ধরনের বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন হতে পারে।

তার ভাষ্য মতে, এটি এক ধরনের জেনেটিক ডিজঅর্ডার যেখানে লিউসিসটিক, অ্যালবাইনো, ডাইলুটেড ফেনোটাইপসহ বেশ কয়েকটি ধরনের হতে পারে। এই তিন ক্ষেত্রেই কোনো পশু বা পাখির ত্বক, চুল বা পশমের রং ফ্যাকাশে বা ঘোলাটে হয়।

মি. হোসেন বলছেন, “টাইরোসিনেস নামক এক ধরনের এনজাইম, যেটা শরীরে মেলানিন তৈরি করে, এর মিউটেশনটা যদি ফাদার-মাদার দুজনই ক্যারি করে এবং যদি রিসেসিভ কন্ডিশনে আসে তাহলে এই ধরনের ক্যারেকটারিসটিকস আমরা দেখতে পাই। অ্যালবাইনিজমটা আসলে রেয়ার,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

এই পরিবর্তনটি শুধু মহিষ নয়, নানা ধরনের প্রাণী মধ্যেই হতে পারে বলে জানান এই গবেষক।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছেন, “মাত্র মহিষের ক্ষেত্রে নায়, সাপ, ইঁদুর, কিছু কিছু সরীসৃপ প্রাণী, এমনকি পাখির মধ্যেও অনেক সময় অ্যালবিনিজমের ক্যারেক্টার দেখা যায়।”

মহিষের মধ্যে এই ধরনের পরিবর্তন বাংলাদেশে কতটা দেখা যায়, এমন প্রশ্নের জবাবে মি. হোসেন বলছেন, বেশ কিছু ধরনের অ্যালবাইনিজম দেখা গেলেও সাদা বা গোলাপি বর্ণের অ্যালবাইনিজম বেশ বিরল।

“পার্শিয়াল অ্যালবাইনিজম, টেম্পারেচার সেনসিটিভ অ্যালবাইনিজম আমরা দেখেছি বা কিছুটা ভ্যারিয়েন্ট যেটা- অকুলোকিউটেনিয়াস অ্যালবাইনিজম সেটাও হয়ত টুকটাক দেখা যায়, তবে এই গোলাপি বর্ণের যে অ্যাবাইনিজটা সেটা রেয়ার,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট বা বিএলআরআই এর গবেষকরা বলছেন, ভারতীয় উপমহাদেশ, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই ধরনের মহিষ বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশে অ্যালবিনো মহিষ খুবই বিরল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএলআরআই এর একজন গবেষক বিবিসি বাংলাকে বলছেন, “অ্যালবিনো মহিষ মূলত আলাদা মহিষের কোনো জাত নয়। এটি জিনগত পরিবর্তনের কারণে হয়, ফলে মেলানিন তৈরি হয় না।”

ওই গবেষক জানান, সম্প্রতি মিয়ানমার বা অন্য কোথাও থেকে কিছু অ্যালবিনো মহিষ খামারিরা বাংলাদেশে এনেছেন।

এছাড়া বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট বা বিএলআরআই এর মহিষ গবেষণা খামারেও কয়েকটি অ্যালবিনো মহিষ রয়েছে যেগুলো দেশি মহিষ থেকে হয়েছে।

মহিষের জাত উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে গবেষণা কার্যক্রম আরও বাড়ানোর কথা বলছেন গবেষকরা।

তারা বলছেন, পৃথিবীর অনেক দেশে দুধের জোগান মূলত মহিষ থেকেই আসে। গবেষণার মাধ্যমে নতুন জাত উদ্ভাবন বা মহিষ লালন-পালন বাড়ানো যায়, তাহলে দেশের দুগ্ধশিল্পে বড়ো ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে মহিষ।

“মহিষের মিল্ক প্রডাকশন অনেক বেশি। এর দুধে ফ্যাট ও প্রোটিনের মাত্রাও বেশি থাকে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের, অ্যানিম্যাল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিকস্ বিভাগের প্রধান ড. মো. মুনির হোসেন।

সংবাদ বিবিসি বাংলা