Dhaka , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রোনালদোর বিদায় এত সহজে হতে দেবে না পর্তুগাল কংগ্রেসে হারের মাধ্যমে কি ট্রাম্পের শেষের শুরু হয়ে গেল বড়দিন উপলক্ষে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী মিরপুরের কালশীতে এক পুলিশকে ঘিরে ধরে মারধর করেন কয়েকজন, জানালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ পরলোকগত ভক্তবৃন্দের স্মরণ দিবস: বিশ্বাস, প্রার্থনা ও চিরন্তন আশার এক বিশেষ দিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প কি কংগ্রেসে (সংসদে) নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন? রাজধানীতে ৭ কোম্পানির অধীনে চালু হলো ৮৬১ বাস, চলবে সাত রুটে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আবার অবরোধ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

বিশ্ব বাবা দিবস আজ

নির্ভরতার অন্যতম প্রতীক বাবা

রিপোর্ট: নীড় সংবাদ ডেস্ক
পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি মানুষের জীবনে বাবার উপস্থিতি বটবৃক্ষের মতো। বাবা হয়তো মায়ের মতো সব অনুভূতি মুখে প্রকাশ করেন না, বারবার ভালোবাসি বলেন না, কিন্তু সন্তানের নিরাপত্তা, স্বপ্ন আর ভবিষ্যতের জন্য নিঃশব্দে লড়ে যান সারাজীবন। বাবার সেই ত্যাগ, দায়িত্ববোধ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতি সম্মান জানাতেই প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার পালিত হয় বিশ্ব বাবা দিবস।
বাবা দিবসের ইতিহাস
বিশ্ব বাবা দিবসের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে। বাবা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে সনোরা স্মার্ট ডড নামে এক নারীর। ১৯০৯ সালের আগে ওয়াশিংটনে বাবা দিবস বলে কোনো বিশেষ দিন ছিল না। সে সময় স্থানীয় গির্জায় ডড মা দিবস পালনের কথা শোনেন। মা দিবস পালনের রীতি রয়েছে কিন্তু বাবা দিবস পালনের রীতি নেই জেনে তিনি ভীষণ অবাক হন।
তারপর তিনি বাবা দিবসের স্বীকৃতির জন্য সোচ্চার হয়ে ওঠেন। ডড তার বাবাকে অসম্ভব ভালোবাসতেন। মা ছিল না তার। মায়ের মৃত্যুর পর শত দুঃখ-কষ্টের মধ্যে থেকেও তাদের সাত ভাইবোনকে বড় করে তুলেছিলেন তাদের সিঙ্গেল বাবা। বাবার এই ত্যাগ দেখে ডডের মনে হলো, মা দিবসের এত আয়োজন হলে বাবা দিবস কেন বাদ থাকবে। বাবাকে সম্মান জানানোর জন্যও একটা দিন থাকা দরকার।
তারপর অনেক চেষ্টা করে দীর্ঘ এক বছরের সাধনায় স্থানীয় কমিউনিটিগুলোতে বাবা দিবস পালন করতে পারেন ডড। ১৯১০ সালের ১৯ জুন বিশ্বে প্রথমবারের মতো পালিত হয় বাবা দিবস।
এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস পালিত হয়।
বাবারা ভালোবাসেন ভিন্নভাবে
অনেক সময় বাবার ভালোবাসা চোখে পড়ে না। কারণ, তিনি আবেগের চেয়ে দায়িত্বকে বেশি গুরুত্ব দেন। সংসারের চাপ, সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের নিরাপত্তা—সবকিছুর ভার কাঁধে নিয়ে এগিয়ে চলেন তিনি।
সন্তান যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখনও বাবা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন। নিজের ইচ্ছা-স্বপ্ন অনেক সময় বিসর্জন দেন সন্তানের স্বপ্ন পূরণের জন্য। তাই বাবার ভালোবাসা অনেকটা বিশাল বটগাছের মতো—যার ছায়া সব সময় অনুভব করা যায়, কিন্তু যার শিকড়ের গভীরতা সহজে বোঝা যায় না।
কেন গুরুত্বপূর্ণ বাবা দিবস
ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেক সময় বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলে যাই। অথচ একটি ছোট্ট ‘ধন্যবাদ’, একটি ফোনকল কিংবা কিছু সময় একসঙ্গে কাটানোও তার মুখে এনে দিতে পারে তৃপ্তির হাসি। বাবা দিবস শুধু উপহার দেয়ার দিন নয়, এটি সম্পর্কের উষ্ণতা ফিরিয়ে আনার একটি উপলক্ষ।
আজকের দিনে বাবার জন্য কী করতে পারেন
বাবার সঙ্গে কিছু সময় কাটান। তার পছন্দের খাবার বা ছোট কোনো উপহার দিন। পুরনো স্মৃতিগুলো নিয়ে গল্প করুন। দূরে থাকলে ফোন বা ভিডিও কলে কথা বলুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাকে বলুন—‘তোমাকে ভালোবাসি, বাবা।’
বাবা এমন একজন মানুষ, যিনি সন্তানের সফলতায় সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান, অথচ নিজের কষ্টের কথা সবচেয়ে কম বলেন। একজন বাবা শুধু পরিবারের অভিভাবক নন, তিনি সন্তানের জীবনের প্রথম নায়ক, প্রথম ভরসা এবং আজীবনের নিরাপদ আশ্রয়।
তথ্য:উইকিপিডিয়া
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বিশ্ব বাবা দিবস আজ

নির্ভরতার অন্যতম প্রতীক বাবা

Update Time : ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি মানুষের জীবনে বাবার উপস্থিতি বটবৃক্ষের মতো। বাবা হয়তো মায়ের মতো সব অনুভূতি মুখে প্রকাশ করেন না, বারবার ভালোবাসি বলেন না, কিন্তু সন্তানের নিরাপত্তা, স্বপ্ন আর ভবিষ্যতের জন্য নিঃশব্দে লড়ে যান সারাজীবন। বাবার সেই ত্যাগ, দায়িত্ববোধ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতি সম্মান জানাতেই প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার পালিত হয় বিশ্ব বাবা দিবস।
বাবা দিবসের ইতিহাস
বিশ্ব বাবা দিবসের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে। বাবা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে সনোরা স্মার্ট ডড নামে এক নারীর। ১৯০৯ সালের আগে ওয়াশিংটনে বাবা দিবস বলে কোনো বিশেষ দিন ছিল না। সে সময় স্থানীয় গির্জায় ডড মা দিবস পালনের কথা শোনেন। মা দিবস পালনের রীতি রয়েছে কিন্তু বাবা দিবস পালনের রীতি নেই জেনে তিনি ভীষণ অবাক হন।
তারপর তিনি বাবা দিবসের স্বীকৃতির জন্য সোচ্চার হয়ে ওঠেন। ডড তার বাবাকে অসম্ভব ভালোবাসতেন। মা ছিল না তার। মায়ের মৃত্যুর পর শত দুঃখ-কষ্টের মধ্যে থেকেও তাদের সাত ভাইবোনকে বড় করে তুলেছিলেন তাদের সিঙ্গেল বাবা। বাবার এই ত্যাগ দেখে ডডের মনে হলো, মা দিবসের এত আয়োজন হলে বাবা দিবস কেন বাদ থাকবে। বাবাকে সম্মান জানানোর জন্যও একটা দিন থাকা দরকার।
তারপর অনেক চেষ্টা করে দীর্ঘ এক বছরের সাধনায় স্থানীয় কমিউনিটিগুলোতে বাবা দিবস পালন করতে পারেন ডড। ১৯১০ সালের ১৯ জুন বিশ্বে প্রথমবারের মতো পালিত হয় বাবা দিবস।
এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস পালিত হয়।
বাবারা ভালোবাসেন ভিন্নভাবে
অনেক সময় বাবার ভালোবাসা চোখে পড়ে না। কারণ, তিনি আবেগের চেয়ে দায়িত্বকে বেশি গুরুত্ব দেন। সংসারের চাপ, সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের নিরাপত্তা—সবকিছুর ভার কাঁধে নিয়ে এগিয়ে চলেন তিনি।
সন্তান যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখনও বাবা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন। নিজের ইচ্ছা-স্বপ্ন অনেক সময় বিসর্জন দেন সন্তানের স্বপ্ন পূরণের জন্য। তাই বাবার ভালোবাসা অনেকটা বিশাল বটগাছের মতো—যার ছায়া সব সময় অনুভব করা যায়, কিন্তু যার শিকড়ের গভীরতা সহজে বোঝা যায় না।
কেন গুরুত্বপূর্ণ বাবা দিবস
ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেক সময় বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলে যাই। অথচ একটি ছোট্ট ‘ধন্যবাদ’, একটি ফোনকল কিংবা কিছু সময় একসঙ্গে কাটানোও তার মুখে এনে দিতে পারে তৃপ্তির হাসি। বাবা দিবস শুধু উপহার দেয়ার দিন নয়, এটি সম্পর্কের উষ্ণতা ফিরিয়ে আনার একটি উপলক্ষ।
আজকের দিনে বাবার জন্য কী করতে পারেন
বাবার সঙ্গে কিছু সময় কাটান। তার পছন্দের খাবার বা ছোট কোনো উপহার দিন। পুরনো স্মৃতিগুলো নিয়ে গল্প করুন। দূরে থাকলে ফোন বা ভিডিও কলে কথা বলুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাকে বলুন—‘তোমাকে ভালোবাসি, বাবা।’
বাবা এমন একজন মানুষ, যিনি সন্তানের সফলতায় সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান, অথচ নিজের কষ্টের কথা সবচেয়ে কম বলেন। একজন বাবা শুধু পরিবারের অভিভাবক নন, তিনি সন্তানের জীবনের প্রথম নায়ক, প্রথম ভরসা এবং আজীবনের নিরাপদ আশ্রয়।
তথ্য:উইকিপিডিয়া