Dhaka , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রোনালদোর বিদায় এত সহজে হতে দেবে না পর্তুগাল কংগ্রেসে হারের মাধ্যমে কি ট্রাম্পের শেষের শুরু হয়ে গেল বড়দিন উপলক্ষে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী মিরপুরের কালশীতে এক পুলিশকে ঘিরে ধরে মারধর করেন কয়েকজন, জানালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ পরলোকগত ভক্তবৃন্দের স্মরণ দিবস: বিশ্বাস, প্রার্থনা ও চিরন্তন আশার এক বিশেষ দিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প কি কংগ্রেসে (সংসদে) নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন? রাজধানীতে ৭ কোম্পানির অধীনে চালু হলো ৮৬১ বাস, চলবে সাত রুটে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আবার অবরোধ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চলের খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্য: নাম কীর্তন গান

আনন্দবাস উপধর্মপল্লীতে তিনব্যাপী খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্য নাম কীর্তন গান অনুষ্ঠিত

রিপোর্ট: নীড় সংবাদ ডেস্ক

বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চলের ভবরপাড়া ধর্মপল্লীর অন্তর্গত আনন্দবাস উপধর্মপল্লীর আনন্দবাস গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল তিনব্যাপী ‘প্রভু যীশুর নাম জপ’ নাম কীর্তন গানের অনুষ্ঠান। গত ১৯ জুন থেকে ২১ জুন তারিখ পর্যন্ত আনন্দবাস গ্রামের মারীয়া পল্লীর মন্ডল বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় এই নাম কীর্তন ও পবিত্র খ্রিষ্টযাগ। কার্পাসডাঙ্গা কাথলিক গির্জার সহকারি পাল পুরোহিত ফাদার জন রুতু সরকার, ভবরপাড়া ধর্মপল্লীর সহকারি পাল পুরোহিত ফাদার আলবিনো সরকার শেষ দিনের পবিত্র খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করেন। পবিত্র এ অনুষ্ঠানে ব্রাদার, সিস্টারসহ খ্রিষ্টভক্তগণ সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। দল ভিত্তিক নাম কীর্তন পরিবেশন করেন অত্র অঞ্চলের খ্রিষ্টভক্তগণ । তিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজনে ছিলেন আনন্দবাস উপ ধর্মপল্লীর খ্রিষ্টভক্তগণ।

 

 

উল্লেখ্য, স্থানীয় ঐতিহ্য ও প্রবীণদের বর্ণনা অনুযায়ী, মেহেরপুর জেলার বল্লভপুর গ্রামের একজন নিবেদিতপ্রাণ খ্রিষ্টভক্ত ভোলা দামপচা এই নাম জপ কীর্তনের প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত।

 

জানা যায়, একসময় বল্লভপুর গ্রামের আটজন খ্রিষ্টভক্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার একটি হিন্দু কীর্তন দলের সঙ্গে বাদ্যযন্ত্র বাজানোর উদ্দেশ্যে ‘নাম কীর্তন’-এ অংশগ্রহণ করেন। সেখানে সমবেতভাবে কৃষ্ণের ও হরির নামবন্দনা ও ভক্তিমূলক পরিবেশনা তাদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।

 

দেশে ফিরে তারা ভাবতে শুরু করেন, খ্রিষ্টান সমাজের মধ্যেও এমন একটি ভক্তিমূলক আয়োজন গড়ে তোলা যায় কিনা, যেখানে যীশু খ্রিষ্টের নাম ও মহিমা প্রচার করা হবে? সেই চিন্তা থেকেই ভোলা দামপচা রচনা করেন বিখ্যাত চরণ-“প্রভু যীশু, প্রভু যীশু, প্রভু যীশুর নাম জপ।”

 

এরপর বল্লভপুর গ্রামের মাঠপাড়ার বটতলায় প্রথমবারের মতো এই নাম জপ কীর্তনের আয়োজন করা হয়। খ্রিষ্টের নাম প্রচারের এই উদ্যোগকে সফল করতে গ্রামের এক খ্রিষ্টভক্ত দুই মণ চাল দান করেন। পরে গ্রামের অন্যান্য মানুষের সহযোগিতায় তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন সম্পন্ন হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চলের এক নতুন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের যাত্রা। পবিত্র এ অনুষ্ঠানে তিনবেলা নিরামিষ আহার পরিবেশনের করা হয় এবং শেষ দিনে গ্রামবাসীর সামর্থ্য অনুযায়ী আমিষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

 

 

 

সংবাদ: মেহেরপুর প্রতিনিধি

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চলের খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্য: নাম কীর্তন গান

আনন্দবাস উপধর্মপল্লীতে তিনব্যাপী খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্য নাম কীর্তন গান অনুষ্ঠিত

Update Time : ০৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চলের ভবরপাড়া ধর্মপল্লীর অন্তর্গত আনন্দবাস উপধর্মপল্লীর আনন্দবাস গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল তিনব্যাপী ‘প্রভু যীশুর নাম জপ’ নাম কীর্তন গানের অনুষ্ঠান। গত ১৯ জুন থেকে ২১ জুন তারিখ পর্যন্ত আনন্দবাস গ্রামের মারীয়া পল্লীর মন্ডল বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় এই নাম কীর্তন ও পবিত্র খ্রিষ্টযাগ। কার্পাসডাঙ্গা কাথলিক গির্জার সহকারি পাল পুরোহিত ফাদার জন রুতু সরকার, ভবরপাড়া ধর্মপল্লীর সহকারি পাল পুরোহিত ফাদার আলবিনো সরকার শেষ দিনের পবিত্র খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করেন। পবিত্র এ অনুষ্ঠানে ব্রাদার, সিস্টারসহ খ্রিষ্টভক্তগণ সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। দল ভিত্তিক নাম কীর্তন পরিবেশন করেন অত্র অঞ্চলের খ্রিষ্টভক্তগণ । তিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজনে ছিলেন আনন্দবাস উপ ধর্মপল্লীর খ্রিষ্টভক্তগণ।

 

 

উল্লেখ্য, স্থানীয় ঐতিহ্য ও প্রবীণদের বর্ণনা অনুযায়ী, মেহেরপুর জেলার বল্লভপুর গ্রামের একজন নিবেদিতপ্রাণ খ্রিষ্টভক্ত ভোলা দামপচা এই নাম জপ কীর্তনের প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত।

 

জানা যায়, একসময় বল্লভপুর গ্রামের আটজন খ্রিষ্টভক্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার একটি হিন্দু কীর্তন দলের সঙ্গে বাদ্যযন্ত্র বাজানোর উদ্দেশ্যে ‘নাম কীর্তন’-এ অংশগ্রহণ করেন। সেখানে সমবেতভাবে কৃষ্ণের ও হরির নামবন্দনা ও ভক্তিমূলক পরিবেশনা তাদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।

 

দেশে ফিরে তারা ভাবতে শুরু করেন, খ্রিষ্টান সমাজের মধ্যেও এমন একটি ভক্তিমূলক আয়োজন গড়ে তোলা যায় কিনা, যেখানে যীশু খ্রিষ্টের নাম ও মহিমা প্রচার করা হবে? সেই চিন্তা থেকেই ভোলা দামপচা রচনা করেন বিখ্যাত চরণ-“প্রভু যীশু, প্রভু যীশু, প্রভু যীশুর নাম জপ।”

 

এরপর বল্লভপুর গ্রামের মাঠপাড়ার বটতলায় প্রথমবারের মতো এই নাম জপ কীর্তনের আয়োজন করা হয়। খ্রিষ্টের নাম প্রচারের এই উদ্যোগকে সফল করতে গ্রামের এক খ্রিষ্টভক্ত দুই মণ চাল দান করেন। পরে গ্রামের অন্যান্য মানুষের সহযোগিতায় তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন সম্পন্ন হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চলের এক নতুন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের যাত্রা। পবিত্র এ অনুষ্ঠানে তিনবেলা নিরামিষ আহার পরিবেশনের করা হয় এবং শেষ দিনে গ্রামবাসীর সামর্থ্য অনুযায়ী আমিষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

 

 

 

সংবাদ: মেহেরপুর প্রতিনিধি