Dhaka , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রোনালদোর বিদায় এত সহজে হতে দেবে না পর্তুগাল কংগ্রেসে হারের মাধ্যমে কি ট্রাম্পের শেষের শুরু হয়ে গেল বড়দিন উপলক্ষে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী মিরপুরের কালশীতে এক পুলিশকে ঘিরে ধরে মারধর করেন কয়েকজন, জানালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ পরলোকগত ভক্তবৃন্দের স্মরণ দিবস: বিশ্বাস, প্রার্থনা ও চিরন্তন আশার এক বিশেষ দিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প কি কংগ্রেসে (সংসদে) নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন? রাজধানীতে ৭ কোম্পানির অধীনে চালু হলো ৮৬১ বাস, চলবে সাত রুটে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আবার অবরোধ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

সড়কে এআই ক্যামেরা : গাড়ির কোন অপরাধে কীভাবে মামলা হচ্ছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

 

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রাস্তায় শত শত ক্যামেরা এবং এআই প্রযুক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মে মাসে পাইলট প্রকল্প শুরুর পর এরই মধ্যে দুহাজারের বেশি ক্যামেরায় ধারণ করে এআই প্রযুক্তিতে মামলা দেয়া হয়েছে।

এই পদক্ষেপের কার্যকারিতা এবং চূড়ান্ত সফলতা নিয়ে চালক, ট্রাফিক পুলিশ এবং পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং মতভিন্নতাও রয়েছে।

এ পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাফিক বিভাগ আশাবাদী হলেও সড়কে শৃঙ্খলা আনা এবং যানজট সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হবে কিনা, সে ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেন গাড়ি চালক এবং বিশেষজ্ঞ মহল।

চালকেরা বলছেন, সড়কে বহুমুখী সংকট। কিন্তু লাইসেন্সধারী এবং নিবন্ধিত যানবাহন কঠোর আইন ও নিয়ম কানুনের বেড়াজালে পড়ছে। তাদের কথায় অনিবন্ধিতরা থেকে যাচ্ছে অনেকটা ধরা ছোয়ার বাইরে, অথচ সড়কে সমস্যার অন্যতম বড় কারণ লাইসেন্সবিহীন চালক আর অনিবন্ধিত যানবাহন।

বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, নিবন্ধনহীন যানবাহন আর অনিয়ন্ত্রিত পরিবহন সেক্টরকে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে রাজধানী ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব নয় । সেই সঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশে যেভাবে ব্যাটারিচালিত ইজি বাইক এবং অটোরিক্সা ছয়লাব হয়ে গেছে, তাতে করে সমস্যা ক্রমাগত জটিল হচ্ছে।

ক্যামেরায় মামলা কীভাবে

বর্তমানে রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়কের দশটি পয়েন্টে এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বা উড়াল সড়কে ক্যামেরা ব্যবহার করে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হচ্ছে।

এক্সপ্রেসওয়েতে ক্যামেরা দিয়ে ওভারস্পিড শনাক্ত করে মামলা আরো আগে শুরু হলেও ঢাকার এআই প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া শুরু হয়েছে চলতি মে মাসের প্রথম সপ্তাহে।

বাংলাদেশে মূলত ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ হয় এবং মামলা দেয়া হয়। হাতে লেখা স্লিপ দিয়ে মামলা শুরু হয়েছিল আশির দশকে, এরপর পজ মেশিন ব্যবহার শুরু হয়। দুটি ক্ষেত্রেই ট্রাফিক পুলিশকে সরাসরি উপস্থিত থেকে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে মামলা দিতে হতো। এখন এআই বেইজড ই প্রসিকিউশন সিস্টেম চালু হয়েছে।

এক্সপ্রেসওয়েতে নির্ধারিত গতিসীমা (৮০কি.মি. প্রতি ঘণ্টা) লঙ্ঘন করলে ক্যামেরায় ছবি তুলে সেই গাড়ির নিবন্ধিত ঠিকানায় মামলার নোটিস পৌঁছে যাচ্ছে। নিবন্ধিত মোবাইলেও পাঠানো হচ্ছে এসএমএস।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শাহবাগ থেকে জাহাঙ্গীর গেইট পর্যন্ত এ সড়কে এখন সয়ংক্রীয়ভাবে অপরাধ শনাক্তের পর মামলা দেয়া হচ্ছে। আপাতত পাঁচ ধরনের অপরাধ শনাক্ত করতে পরীক্ষামূলকভাবে এআই সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে। গাড়ি শনাক্তের জন্য ১০৫টি ক্যামেরা ব্যবহার হচ্ছে। এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়বে বলে জানাচ্ছে ট্রাফিক বিভাগ।ডিএপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার আনিসুর রহমান জানান, এআই কোন কোন অপরাধ শনাক্ত করবে সফটওয়্যারে সেগুলোর একটা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তার ভিত্তিতেই অপরাধ শনাক্ত করে মামলা দেয়া হয়।

“আমরা রেড সিগন্যাল ভায়োলেশন একটা, তারপর জেব্রা ক্রসিং অতিক্রম করা। অত্যন্ত গরুত্বের সঙ্গে আমরা যেটা দেখি সেটা হলো উল্টো পথে গাড়ি আসা। স্টপেজ ছাড়া গাড়ি থামানো বা অন্য যানবাহনের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা এবং আরেকটা বিষয় হচ্ছে যদি আপনি বাম লেনটা ব্লক করে দেন। মূলত এই পাঁচ ধরনের জিনিসগুলো দেখছি।”

এছাড়া এআই ব্যবহার করে আরো কিছু ফিচার অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানাচ্ছে ডিএমপি। এর মধ্যে গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলা, সিট বেল্ট বাঁধার মতো বিষয় রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০১:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

সড়কে এআই ক্যামেরা : গাড়ির কোন অপরাধে কীভাবে মামলা হচ্ছে?

Update Time : ০১:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

 

 

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রাস্তায় শত শত ক্যামেরা এবং এআই প্রযুক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মে মাসে পাইলট প্রকল্প শুরুর পর এরই মধ্যে দুহাজারের বেশি ক্যামেরায় ধারণ করে এআই প্রযুক্তিতে মামলা দেয়া হয়েছে।

এই পদক্ষেপের কার্যকারিতা এবং চূড়ান্ত সফলতা নিয়ে চালক, ট্রাফিক পুলিশ এবং পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং মতভিন্নতাও রয়েছে।

এ পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাফিক বিভাগ আশাবাদী হলেও সড়কে শৃঙ্খলা আনা এবং যানজট সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হবে কিনা, সে ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেন গাড়ি চালক এবং বিশেষজ্ঞ মহল।

চালকেরা বলছেন, সড়কে বহুমুখী সংকট। কিন্তু লাইসেন্সধারী এবং নিবন্ধিত যানবাহন কঠোর আইন ও নিয়ম কানুনের বেড়াজালে পড়ছে। তাদের কথায় অনিবন্ধিতরা থেকে যাচ্ছে অনেকটা ধরা ছোয়ার বাইরে, অথচ সড়কে সমস্যার অন্যতম বড় কারণ লাইসেন্সবিহীন চালক আর অনিবন্ধিত যানবাহন।

বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, নিবন্ধনহীন যানবাহন আর অনিয়ন্ত্রিত পরিবহন সেক্টরকে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে রাজধানী ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব নয় । সেই সঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশে যেভাবে ব্যাটারিচালিত ইজি বাইক এবং অটোরিক্সা ছয়লাব হয়ে গেছে, তাতে করে সমস্যা ক্রমাগত জটিল হচ্ছে।

ক্যামেরায় মামলা কীভাবে

বর্তমানে রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়কের দশটি পয়েন্টে এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বা উড়াল সড়কে ক্যামেরা ব্যবহার করে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হচ্ছে।

এক্সপ্রেসওয়েতে ক্যামেরা দিয়ে ওভারস্পিড শনাক্ত করে মামলা আরো আগে শুরু হলেও ঢাকার এআই প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া শুরু হয়েছে চলতি মে মাসের প্রথম সপ্তাহে।

বাংলাদেশে মূলত ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ হয় এবং মামলা দেয়া হয়। হাতে লেখা স্লিপ দিয়ে মামলা শুরু হয়েছিল আশির দশকে, এরপর পজ মেশিন ব্যবহার শুরু হয়। দুটি ক্ষেত্রেই ট্রাফিক পুলিশকে সরাসরি উপস্থিত থেকে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে মামলা দিতে হতো। এখন এআই বেইজড ই প্রসিকিউশন সিস্টেম চালু হয়েছে।

এক্সপ্রেসওয়েতে নির্ধারিত গতিসীমা (৮০কি.মি. প্রতি ঘণ্টা) লঙ্ঘন করলে ক্যামেরায় ছবি তুলে সেই গাড়ির নিবন্ধিত ঠিকানায় মামলার নোটিস পৌঁছে যাচ্ছে। নিবন্ধিত মোবাইলেও পাঠানো হচ্ছে এসএমএস।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শাহবাগ থেকে জাহাঙ্গীর গেইট পর্যন্ত এ সড়কে এখন সয়ংক্রীয়ভাবে অপরাধ শনাক্তের পর মামলা দেয়া হচ্ছে। আপাতত পাঁচ ধরনের অপরাধ শনাক্ত করতে পরীক্ষামূলকভাবে এআই সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে। গাড়ি শনাক্তের জন্য ১০৫টি ক্যামেরা ব্যবহার হচ্ছে। এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়বে বলে জানাচ্ছে ট্রাফিক বিভাগ।ডিএপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার আনিসুর রহমান জানান, এআই কোন কোন অপরাধ শনাক্ত করবে সফটওয়্যারে সেগুলোর একটা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তার ভিত্তিতেই অপরাধ শনাক্ত করে মামলা দেয়া হয়।

“আমরা রেড সিগন্যাল ভায়োলেশন একটা, তারপর জেব্রা ক্রসিং অতিক্রম করা। অত্যন্ত গরুত্বের সঙ্গে আমরা যেটা দেখি সেটা হলো উল্টো পথে গাড়ি আসা। স্টপেজ ছাড়া গাড়ি থামানো বা অন্য যানবাহনের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা এবং আরেকটা বিষয় হচ্ছে যদি আপনি বাম লেনটা ব্লক করে দেন। মূলত এই পাঁচ ধরনের জিনিসগুলো দেখছি।”

এছাড়া এআই ব্যবহার করে আরো কিছু ফিচার অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানাচ্ছে ডিএমপি। এর মধ্যে গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলা, সিট বেল্ট বাঁধার মতো বিষয় রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা