Dhaka , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রোনালদোর বিদায় এত সহজে হতে দেবে না পর্তুগাল কংগ্রেসে হারের মাধ্যমে কি ট্রাম্পের শেষের শুরু হয়ে গেল বড়দিন উপলক্ষে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী মিরপুরের কালশীতে এক পুলিশকে ঘিরে ধরে মারধর করেন কয়েকজন, জানালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ পরলোকগত ভক্তবৃন্দের স্মরণ দিবস: বিশ্বাস, প্রার্থনা ও চিরন্তন আশার এক বিশেষ দিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প কি কংগ্রেসে (সংসদে) নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন? রাজধানীতে ৭ কোম্পানির অধীনে চালু হলো ৮৬১ বাস, চলবে সাত রুটে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আবার অবরোধ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

নতুন চুক্তি হচ্ছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়তে পারে

রিপোর্ট: নীড় সংবাদ ডেস্ক

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মতৈক্যে পৌঁছেছে। নতুন চুক্তি হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়বে। নির্ভরযোগ্য সূত্র রয়টার্সকে এমন তথ্য জানিয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এই চুক্তি অনুমোদন করেননি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

 

বিষয়টি সম্পর্কে জানেন, এমন চারটি সূত্রের মতে, নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়বে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে আবার স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল করতে পারবে। এ সময়ে দুই দেশের আলোচকেরা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টার সুযোগ পাবেন।

 

ওয়াশিংটন ও তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এই চুক্তি মেনে নিলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর এটিই হবে শান্তির পথে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর চলতি সপ্তাহেও দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ উত্তেজনার মধ্যেই সম্ভাব্য চুক্তির খবর সামনে এল।

 

সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো এই চুক্তিতে সই বা অনুমোদন করেননি। তবে ইরান এ বিষয়ে এখনো সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ইরানের আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, চুক্তির খসড়া এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।

 

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা এখনো চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। তবে আমরা খুব কাছাকাছি আছি। এ বিষয়ে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখব।’

 

জে ডি ভ্যান্স আরও বলেন, ‘আমি শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারছি না, চুক্তিটি হবেই। তবে এই মুহূর্তে পরিস্থিতি দেখে আমরা বেশ আশাবাদী।’

 

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েকবার দাবি করেছিল, যুদ্ধ থামানোর চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। তবে প্রতিবারই ইরান সেই দাবি অস্বীকার করেছে বা তেমন গুরুত্ব দেয়নি।

 

এই চুক্তি সফল হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল করতে পারবে। বিনিময়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নেবে।

পাশাপাশি ইরানের তেল বিক্রির ওপর থেকেও কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে দেশটি।

বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়। এটি আবার খুলে যাওয়ার সম্ভাবনার খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে গেছে।

 

এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, তাদের বাহিনী ইরানের পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এ ছাড়া তারা ইরানের বন্দর আব্বাস শহরের একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রেও হামলা চালিয়েছে। এরপরই কুয়েতের দিকে ধেয়ে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ধ্বংস করে কুয়েতি বাহিনী। কুয়েতে বড় এক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছে, তারা বুশেহরের কাছে একটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করেছে। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা ইরানের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন।

এসব ছোটখাটো হামলার ঘটনা প্রমাণ করছে, তিন মাসের এই যুদ্ধ থামানো কতটা কঠিন। ভঙ্গুর এই যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দেওয়ার আলোচনা এখনো বেশ নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।

 

তাসনিম বার্তা সংস্থার খবর অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী বাহিনীর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, বন্দর আব্বাসে হামলার জবাবে ওই মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আবার এমন করা হলে আরও ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে।

 

এই সংকট সমাধানে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার শুক্রবার ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে দেখা করার কথা। তবে এই সফরের সুনির্দিষ্ট গুরুত্ব এখনো পরিষ্কার নয়।

 

ওমানকে সতর্কতা

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের ওপর নতুন করে কোনো শুল্ক আরোপের বিষয়ে ওমান যেন ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে, সেই বিষয়ে ওমানকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বুধবার ট্রাম্প ওমানে বোমা হামলার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ওমানের রাষ্ট্রদূত তাঁকে নিশ্চিত করেছেন, এ ধরনের শুল্ক বসানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

ওমান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে তাদের সাধারণ আলোচনা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের এই হুমকির পর ইরান ওমানের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

নতুন চুক্তি হচ্ছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়তে পারে

Update Time : ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মতৈক্যে পৌঁছেছে। নতুন চুক্তি হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়বে। নির্ভরযোগ্য সূত্র রয়টার্সকে এমন তথ্য জানিয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এই চুক্তি অনুমোদন করেননি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

 

বিষয়টি সম্পর্কে জানেন, এমন চারটি সূত্রের মতে, নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়বে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে আবার স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল করতে পারবে। এ সময়ে দুই দেশের আলোচকেরা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টার সুযোগ পাবেন।

 

ওয়াশিংটন ও তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এই চুক্তি মেনে নিলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর এটিই হবে শান্তির পথে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর চলতি সপ্তাহেও দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ উত্তেজনার মধ্যেই সম্ভাব্য চুক্তির খবর সামনে এল।

 

সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো এই চুক্তিতে সই বা অনুমোদন করেননি। তবে ইরান এ বিষয়ে এখনো সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ইরানের আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, চুক্তির খসড়া এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।

 

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা এখনো চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। তবে আমরা খুব কাছাকাছি আছি। এ বিষয়ে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখব।’

 

জে ডি ভ্যান্স আরও বলেন, ‘আমি শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারছি না, চুক্তিটি হবেই। তবে এই মুহূর্তে পরিস্থিতি দেখে আমরা বেশ আশাবাদী।’

 

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েকবার দাবি করেছিল, যুদ্ধ থামানোর চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। তবে প্রতিবারই ইরান সেই দাবি অস্বীকার করেছে বা তেমন গুরুত্ব দেয়নি।

 

এই চুক্তি সফল হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল করতে পারবে। বিনিময়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নেবে।

পাশাপাশি ইরানের তেল বিক্রির ওপর থেকেও কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে দেশটি।

বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়। এটি আবার খুলে যাওয়ার সম্ভাবনার খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে গেছে।

 

এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, তাদের বাহিনী ইরানের পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এ ছাড়া তারা ইরানের বন্দর আব্বাস শহরের একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রেও হামলা চালিয়েছে। এরপরই কুয়েতের দিকে ধেয়ে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ধ্বংস করে কুয়েতি বাহিনী। কুয়েতে বড় এক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছে, তারা বুশেহরের কাছে একটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করেছে। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা ইরানের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন।

এসব ছোটখাটো হামলার ঘটনা প্রমাণ করছে, তিন মাসের এই যুদ্ধ থামানো কতটা কঠিন। ভঙ্গুর এই যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দেওয়ার আলোচনা এখনো বেশ নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।

 

তাসনিম বার্তা সংস্থার খবর অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী বাহিনীর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, বন্দর আব্বাসে হামলার জবাবে ওই মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আবার এমন করা হলে আরও ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে।

 

এই সংকট সমাধানে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার শুক্রবার ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে দেখা করার কথা। তবে এই সফরের সুনির্দিষ্ট গুরুত্ব এখনো পরিষ্কার নয়।

 

ওমানকে সতর্কতা

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের ওপর নতুন করে কোনো শুল্ক আরোপের বিষয়ে ওমান যেন ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে, সেই বিষয়ে ওমানকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বুধবার ট্রাম্প ওমানে বোমা হামলার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ওমানের রাষ্ট্রদূত তাঁকে নিশ্চিত করেছেন, এ ধরনের শুল্ক বসানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

ওমান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে তাদের সাধারণ আলোচনা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের এই হুমকির পর ইরান ওমানের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।