Dhaka , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রোনালদোর বিদায় এত সহজে হতে দেবে না পর্তুগাল কংগ্রেসে হারের মাধ্যমে কি ট্রাম্পের শেষের শুরু হয়ে গেল বড়দিন উপলক্ষে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী মিরপুরের কালশীতে এক পুলিশকে ঘিরে ধরে মারধর করেন কয়েকজন, জানালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ পরলোকগত ভক্তবৃন্দের স্মরণ দিবস: বিশ্বাস, প্রার্থনা ও চিরন্তন আশার এক বিশেষ দিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প কি কংগ্রেসে (সংসদে) নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন? রাজধানীতে ৭ কোম্পানির অধীনে চালু হলো ৮৬১ বাস, চলবে সাত রুটে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আবার অবরোধ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

যুদ্ধ বন্ধে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, ১৯ জুন চুক্তি সই

রিপোর্ট: নীড় সংবাদ ডেস্ক

যুদ্ধ বন্ধে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। রোববার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের পক্ষ থেকেও চুক্তির বিষয়টি জানানো হয়েছে। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হবে।

 

চুক্তির বিষয়টি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন। আমি হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণভাবে টোলমুক্তভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার অনুমতি দিচ্ছি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধও অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি।’

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বিশ্বের জাহাজগুলো, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেলের প্রবাহ চলুক।’

 

পরে ইরানের ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদিও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

এর আগে রোববার লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যখন তার দেশ শান্তিচুক্তির দ্বারপ্রান্তে, তখন এই ধরনের হামলা ‘নেতানিয়াহুর বিচার-বিবেচনাহীন’ কাজ।

 

এর আগে গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি হামলার কড়া সমালোচনা করেন ইরানের আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেন, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের ‘ইচ্ছা ও সক্ষমতা’ রাখে না।

 

যেসব শর্তে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক শান্তিচুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে। প্রস্তাবিত এই শান্তিচুক্তিতে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্তকরণ এবং ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

দুই পক্ষ এই সমঝোতায় সম্মত হওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে ইরানি সূত্র।
খসড়া সমঝোতা অনুযায়ী, সামরিক ও ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে ইরান অবিলম্বে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দেবে। এর বিপরীতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নেবে।

 

অর্থনৈতিক ও নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিষয়ে খসড়াটিতে বলা হয়েছে, একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে না। এ ছাড়া ওয়াশিংটন একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ইরানের ওপর থেকে তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে, যার ফলে তেহরান আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করতে পারবে এবং তার রাজস্ব সরাসরি গ্রহণ করতে পারবে।

 

একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবরুদ্ধ হয়ে থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছে। এই অর্থ সরাসরি নগদ স্থানান্তর, আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং আর্থিক ক্রেডিট লাইনের মাধ্যমে ইরানকে ফেরত দেয়া হবে।

পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে তেহরান এই খসড়ায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ইরান কখনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা তা অর্জন করবে না। চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তারা পরমাণু কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা (স্ট্যাটাস কো) বজায় রাখবে। যার মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ না করা এবং পরমাণু স্থাপনা সম্প্রসারণ না করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

সূত্র: আল-আরাবিয়া

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

যুদ্ধ বন্ধে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, ১৯ জুন চুক্তি সই

Update Time : ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

যুদ্ধ বন্ধে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। রোববার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের পক্ষ থেকেও চুক্তির বিষয়টি জানানো হয়েছে। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হবে।

 

চুক্তির বিষয়টি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন। আমি হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণভাবে টোলমুক্তভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার অনুমতি দিচ্ছি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধও অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি।’

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বিশ্বের জাহাজগুলো, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেলের প্রবাহ চলুক।’

 

পরে ইরানের ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদিও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

এর আগে রোববার লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যখন তার দেশ শান্তিচুক্তির দ্বারপ্রান্তে, তখন এই ধরনের হামলা ‘নেতানিয়াহুর বিচার-বিবেচনাহীন’ কাজ।

 

এর আগে গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি হামলার কড়া সমালোচনা করেন ইরানের আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেন, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের ‘ইচ্ছা ও সক্ষমতা’ রাখে না।

 

যেসব শর্তে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক শান্তিচুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে। প্রস্তাবিত এই শান্তিচুক্তিতে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্তকরণ এবং ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

দুই পক্ষ এই সমঝোতায় সম্মত হওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে ইরানি সূত্র।
খসড়া সমঝোতা অনুযায়ী, সামরিক ও ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে ইরান অবিলম্বে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দেবে। এর বিপরীতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নেবে।

 

অর্থনৈতিক ও নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিষয়ে খসড়াটিতে বলা হয়েছে, একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে না। এ ছাড়া ওয়াশিংটন একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ইরানের ওপর থেকে তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে, যার ফলে তেহরান আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করতে পারবে এবং তার রাজস্ব সরাসরি গ্রহণ করতে পারবে।

 

একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবরুদ্ধ হয়ে থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছে। এই অর্থ সরাসরি নগদ স্থানান্তর, আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং আর্থিক ক্রেডিট লাইনের মাধ্যমে ইরানকে ফেরত দেয়া হবে।

পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে তেহরান এই খসড়ায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ইরান কখনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা তা অর্জন করবে না। চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তারা পরমাণু কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা (স্ট্যাটাস কো) বজায় রাখবে। যার মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ না করা এবং পরমাণু স্থাপনা সম্প্রসারণ না করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

সূত্র: আল-আরাবিয়া