Dhaka , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রোনালদোর বিদায় এত সহজে হতে দেবে না পর্তুগাল কংগ্রেসে হারের মাধ্যমে কি ট্রাম্পের শেষের শুরু হয়ে গেল বড়দিন উপলক্ষে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী মিরপুরের কালশীতে এক পুলিশকে ঘিরে ধরে মারধর করেন কয়েকজন, জানালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ পরলোকগত ভক্তবৃন্দের স্মরণ দিবস: বিশ্বাস, প্রার্থনা ও চিরন্তন আশার এক বিশেষ দিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প কি কংগ্রেসে (সংসদে) নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন? রাজধানীতে ৭ কোম্পানির অধীনে চালু হলো ৮৬১ বাস, চলবে সাত রুটে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আবার অবরোধ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

সরকারি চাকরিতে এখনো গোয়েন্দা দিয়ে যাচাই, প্রাথমিকে অনেকের নিয়োগ আটকে

রিপোর্ট: নীড় সংবাদ ডেস্ক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদের চাকরির পরীক্ষায় ভালোভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছিলেন পিরোজপুরের মো. জাহিদ হাসান। জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলায় সুপারিশপ্রাপ্ত ৮৩ জনের মধ্যে জাহিদের মেধাক্রম ছিল ৫৪তম। নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশও পেয়েছিলেন তিনি।

অবশ্য অন্য অনেকে নিয়োগপত্র পেলেও জাহিদ পাননি। তাঁর সন্দেহ, যাচাই বা ভেরিফিকেশনের নামে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী জাহিদের কোটাও ছিল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নিয়োগপত্র না পাওয়ার খবরটি শোনার পর মা কাঁদতে শুরু করেন। বাবা ভেঙে পড়েছেন।

শুধু জাহিদ নন, তাঁর মতো শত শত চাকরিপ্রার্থীকে যাচাইয়ের নামে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সূত্র বলছে, পুলিশের পাশাপাশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাইয়ের কাজটি করানো হয়েছে।

এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের মোর্চা বলছে, তারা ৬১ জেলার মধ্যে ৫৫টি জেলার নিয়োগ হওয়ার তথ্য পেয়েছে। বাদ পড়ার সংখ্যা ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি। উল্লেখ্য, পার্বত্য তিন জেলায় নিয়োগ হয় জেলা পরিষদের মাধ্যমে। আর ছয়টি জেলায় নিয়োগের তালিকা গতকাল শনিবার রাত নয়টা পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার দাবি সঠিক কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রথম আলো ১১টি জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে জানতে পেরেছে, এসব জেলায় বাদ পড়ার সংখ্যা ৫৫৪। জেলাগুলো হলো ময়মনসিংহ, রংপুর, দিনাজপুর, ঝালকাঠি, নীলফামারী, কুষ্টিয়া, জামালপুর, মৌলভীবাজার, চাঁদপুর, নড়াইল ও সুনামগঞ্জ।

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১টি জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। তাঁদের ১ অক্টোবর যোগ দেওয়ার কথা। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। তখন সেই তালিকায় নাম না থাকা ব্যক্তিদের তথ্য বেরিয়ে আসে। মোট কতজনের কাছে নিয়োগপত্র পাঠানো হয়েছে, সে তথ্য পাওয়া যায়নি।

চাকরি না পাওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে নিয়োগপত্র না পাওয়ার কথা জানান।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ নিয়ম হলো, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলে এবং অপরাধে জড়ানোর তথ্য থাকলে তাঁকে নিয়োগের জন্য অনুপযুক্ত বিবেচনা করা যায়; কিন্তু বাস্তবে যাচাইয়ের নামে প্রার্থী বা তাঁর পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা খোঁজা হয় এবং তা দেখে নিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক/নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়। এই চর্চা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তা বন্ধ হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলেও তা দেখা যাচ্ছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, এমন অন্যায়ের বিরুদ্ধেই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের মতো জায়গায়ও রাজনৈতিক বিবেচনা অশনিসংকেত।

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী এক কোটির বেশি। শিক্ষক রয়েছেন পৌনে চার লাখের মতো। এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৩৬ হাজারের বেশি পদ শূন্য। সহকারী শিক্ষকের কয়েক হাজার পদও শূন্য রয়েছে।

বর্তমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে ৮০ শতাংশ নিয়োগ হয় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে। সরাসরি নিয়োগ হয় ২০ শতাংশ। তবে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে একটি মামলা চলছিল। গত বছরের জুলাইয়ে উচ্চ আদালতের রায়ে সেই জটিলতা কেটে যায়। এরপর প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই সহকারী শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়। ওই সরকারের একেবারে শেষ পর্যায়ে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

উত্তীর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নথিপত্র জমা না দেওয়ায় নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। যেমন ময়মনসিংহ জেলায় নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পেয়েছিলেন ২৫৯ জন। তাঁদের মধ্যে নিয়োগপত্র বা নিয়োগের তালিকায় আছেন ২১৭ জন। অর্থাৎ ৪২ জন নিয়োগপত্র পাননি। ময়মনসিংহের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ১৮ জন নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। তাঁরা হয়তো চাকরিতে যোগ দেবেন না। এর বাইরে আরও ২৪ জন নিয়োগপত্র পাননি।

সূত্র বলছে, সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে একটি বড় অংশ নিয়োগপত্র পায়নি গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক (বিরূপ) মন্তব্যের কারণে।

এ বিষয়ে গতকাল বিকেলে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন/ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি চাকরিতে এখনো গোয়েন্দা দিয়ে যাচাই, প্রাথমিকে অনেকের নিয়োগ আটকে

Update Time : ০১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদের চাকরির পরীক্ষায় ভালোভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছিলেন পিরোজপুরের মো. জাহিদ হাসান। জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলায় সুপারিশপ্রাপ্ত ৮৩ জনের মধ্যে জাহিদের মেধাক্রম ছিল ৫৪তম। নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশও পেয়েছিলেন তিনি।

অবশ্য অন্য অনেকে নিয়োগপত্র পেলেও জাহিদ পাননি। তাঁর সন্দেহ, যাচাই বা ভেরিফিকেশনের নামে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী জাহিদের কোটাও ছিল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নিয়োগপত্র না পাওয়ার খবরটি শোনার পর মা কাঁদতে শুরু করেন। বাবা ভেঙে পড়েছেন।

শুধু জাহিদ নন, তাঁর মতো শত শত চাকরিপ্রার্থীকে যাচাইয়ের নামে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সূত্র বলছে, পুলিশের পাশাপাশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাইয়ের কাজটি করানো হয়েছে।

এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের মোর্চা বলছে, তারা ৬১ জেলার মধ্যে ৫৫টি জেলার নিয়োগ হওয়ার তথ্য পেয়েছে। বাদ পড়ার সংখ্যা ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি। উল্লেখ্য, পার্বত্য তিন জেলায় নিয়োগ হয় জেলা পরিষদের মাধ্যমে। আর ছয়টি জেলায় নিয়োগের তালিকা গতকাল শনিবার রাত নয়টা পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার দাবি সঠিক কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রথম আলো ১১টি জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে জানতে পেরেছে, এসব জেলায় বাদ পড়ার সংখ্যা ৫৫৪। জেলাগুলো হলো ময়মনসিংহ, রংপুর, দিনাজপুর, ঝালকাঠি, নীলফামারী, কুষ্টিয়া, জামালপুর, মৌলভীবাজার, চাঁদপুর, নড়াইল ও সুনামগঞ্জ।

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১টি জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। তাঁদের ১ অক্টোবর যোগ দেওয়ার কথা। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। তখন সেই তালিকায় নাম না থাকা ব্যক্তিদের তথ্য বেরিয়ে আসে। মোট কতজনের কাছে নিয়োগপত্র পাঠানো হয়েছে, সে তথ্য পাওয়া যায়নি।

চাকরি না পাওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে নিয়োগপত্র না পাওয়ার কথা জানান।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ নিয়ম হলো, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলে এবং অপরাধে জড়ানোর তথ্য থাকলে তাঁকে নিয়োগের জন্য অনুপযুক্ত বিবেচনা করা যায়; কিন্তু বাস্তবে যাচাইয়ের নামে প্রার্থী বা তাঁর পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা খোঁজা হয় এবং তা দেখে নিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক/নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়। এই চর্চা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তা বন্ধ হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলেও তা দেখা যাচ্ছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, এমন অন্যায়ের বিরুদ্ধেই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের মতো জায়গায়ও রাজনৈতিক বিবেচনা অশনিসংকেত।

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী এক কোটির বেশি। শিক্ষক রয়েছেন পৌনে চার লাখের মতো। এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৩৬ হাজারের বেশি পদ শূন্য। সহকারী শিক্ষকের কয়েক হাজার পদও শূন্য রয়েছে।

বর্তমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে ৮০ শতাংশ নিয়োগ হয় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে। সরাসরি নিয়োগ হয় ২০ শতাংশ। তবে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে একটি মামলা চলছিল। গত বছরের জুলাইয়ে উচ্চ আদালতের রায়ে সেই জটিলতা কেটে যায়। এরপর প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই সহকারী শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়। ওই সরকারের একেবারে শেষ পর্যায়ে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

উত্তীর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নথিপত্র জমা না দেওয়ায় নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। যেমন ময়মনসিংহ জেলায় নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পেয়েছিলেন ২৫৯ জন। তাঁদের মধ্যে নিয়োগপত্র বা নিয়োগের তালিকায় আছেন ২১৭ জন। অর্থাৎ ৪২ জন নিয়োগপত্র পাননি। ময়মনসিংহের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ১৮ জন নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। তাঁরা হয়তো চাকরিতে যোগ দেবেন না। এর বাইরে আরও ২৪ জন নিয়োগপত্র পাননি।

সূত্র বলছে, সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে একটি বড় অংশ নিয়োগপত্র পায়নি গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক (বিরূপ) মন্তব্যের কারণে।

এ বিষয়ে গতকাল বিকেলে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন/ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।