Dhaka , শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বারোমারীতে ফাতেমা রাণীর বার্ষিক তীর্থোৎসব অনু‌ষ্ঠিত ‘ব্যালন ডি’অর অব অলটাইম’ জয় রোনালদোর তুরাগ নদী থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার ব্যাংক খাতে ঋণখেলাপির সংস্কৃতি থেকে লুটপাটের সংস্কৃতিতে ঢুকেছি: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আমরা একটি ‘শক্তিশালী নতুন জাতীয় সরকার’ গড়ব, ঘোষণা নেতানিয়াহুর প্রধান উপদেষ্টার নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে জটিলতা ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের যে ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর অনুষ্ঠিত হলো ‘দি মেট্রোপলিটান খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিঃ-এর বার্ষিক রিট্রিট ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান সৌদি আরবের কাছে চিঠি বাংলাদেশের: দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বিষয়ে ৬ প্রশ্ন

বারোমারীতে ফাতেমা রাণীর বার্ষিক তীর্থোৎসব অনু‌ষ্ঠিত

রিপোর্ট: নীড় সংবাদ ডেস্ক

গারো পাহাড়ে শুরু হলো দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ তীর্থোৎসব I ছবি: সংগৃহীত

ভারত সীমান্তঘেঁষা শেরপুরের গারো পাহাড়ের বারোমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লীতে নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ক্যাথলিক খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ তীর্থোৎসব শুরু হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল থেকে দুই দিনব্যাপী এই তীর্থোৎসব শুরু হয়, যা শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে শেষ হবে।

 

উৎসবকে কেন্দ্র করে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বারোমারী এলাকায় বইছে উৎসবের আমেজ। রাস্তা সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও চোখধাঁধানো আলোকসজ্জাসহ পুরো এলাকায় বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। আয়োজকদের ধারণা, বুধ ও বৃহস্পতিবারের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশ থেকে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক পুণ্যার্থী এই উৎসবে যোগ দেবেন।

 

‘মানবতার জননী ফাতেমা রানী মা মারিয়া’—এই মূল সুর নিয়ে আজ বিকেল তিনটায় পাপস্বীকারের মধ্য দিয়ে তীর্থোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এরপর বিকেল চারটায় পবিত্র খ্রিষ্টযাগ এবং রাত আটটায় ঐতিহ্যবাহী ও দৃষ্টিনন্দন আলোর মিছিল অনুিষ্ঠত হয়। এই মিছিলে হাজার হাজার পুণ্যার্থী খালি পায়ে জ্বলন্ত মোমবাতি হাতে নিয়ে পাহাড়ি উঁচু-নিচু পথ পাড়ি দিয়ে মা মারিয়ার মূল মূর্তির পাদদেশে পৌঁছান। রাত ১২টায় অনুষ্ঠিত হবে নিশিজাগরণ ও নিরাময় অনুষ্ঠান। শুক্রবার সকালে জীবন্ত ক্রুশের পথ এবং সকাল ১০টায় মহা খ্রিষ্টযাগের মধ্য দিয়ে এ বছরের তীর্থোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

 

উৎসবের সার্বিক বিষয়ে ফাদার তরুণ বনোয়ারী বলেন, আগত খ্রিষ্টভক্তরা তাদের নানা মানত পূরণ ও পাপমোচনে ঈশ্বর জননী মা মারিয়ার প্রতি ভক্তি জানান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সিভিল প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় বড় পরিসরে এবার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

এবারের উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খ্রিষ্টযাগ পরিচালনা করবেন ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের বিশপ পল পলেন কুবি সিএসসি।

 

উৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী। শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম জানান, তীর্থোৎসব নির্বিঘ্ন করতে চার শতাধিক পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

 

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, শেরপুর একটি অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির জেলা। এই অনুষ্ঠানে সব ধর্মের মানুষ একাত্ম হয়। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান শেষ করতে সিভিল প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও আয়োজকদের যৌথ সমন্বয়ে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

১৯৪২ সালে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্ত এলাকায় প্রায় ৪২ একর জমির ওপর পর্তুগালের ফাতেমা নগরীর আদলে সাধু লিওর এই ধর্মপল্লী গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতি বছর অক্টোবরের শেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারে এই বার্ষিক ফাতেমা রানীর তীর্থোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১৭ ঘন্টা আগে

বারোমারীতে ফাতেমা রাণীর বার্ষিক তীর্থোৎসব অনু‌ষ্ঠিত

Update Time : ১৭ ঘন্টা আগে

ভারত সীমান্তঘেঁষা শেরপুরের গারো পাহাড়ের বারোমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লীতে নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ক্যাথলিক খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ তীর্থোৎসব শুরু হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল থেকে দুই দিনব্যাপী এই তীর্থোৎসব শুরু হয়, যা শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে শেষ হবে।

 

উৎসবকে কেন্দ্র করে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বারোমারী এলাকায় বইছে উৎসবের আমেজ। রাস্তা সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও চোখধাঁধানো আলোকসজ্জাসহ পুরো এলাকায় বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। আয়োজকদের ধারণা, বুধ ও বৃহস্পতিবারের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশ থেকে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক পুণ্যার্থী এই উৎসবে যোগ দেবেন।

 

‘মানবতার জননী ফাতেমা রানী মা মারিয়া’—এই মূল সুর নিয়ে আজ বিকেল তিনটায় পাপস্বীকারের মধ্য দিয়ে তীর্থোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এরপর বিকেল চারটায় পবিত্র খ্রিষ্টযাগ এবং রাত আটটায় ঐতিহ্যবাহী ও দৃষ্টিনন্দন আলোর মিছিল অনুিষ্ঠত হয়। এই মিছিলে হাজার হাজার পুণ্যার্থী খালি পায়ে জ্বলন্ত মোমবাতি হাতে নিয়ে পাহাড়ি উঁচু-নিচু পথ পাড়ি দিয়ে মা মারিয়ার মূল মূর্তির পাদদেশে পৌঁছান। রাত ১২টায় অনুষ্ঠিত হবে নিশিজাগরণ ও নিরাময় অনুষ্ঠান। শুক্রবার সকালে জীবন্ত ক্রুশের পথ এবং সকাল ১০টায় মহা খ্রিষ্টযাগের মধ্য দিয়ে এ বছরের তীর্থোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

 

উৎসবের সার্বিক বিষয়ে ফাদার তরুণ বনোয়ারী বলেন, আগত খ্রিষ্টভক্তরা তাদের নানা মানত পূরণ ও পাপমোচনে ঈশ্বর জননী মা মারিয়ার প্রতি ভক্তি জানান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সিভিল প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় বড় পরিসরে এবার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

এবারের উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খ্রিষ্টযাগ পরিচালনা করবেন ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের বিশপ পল পলেন কুবি সিএসসি।

 

উৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী। শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম জানান, তীর্থোৎসব নির্বিঘ্ন করতে চার শতাধিক পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

 

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, শেরপুর একটি অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির জেলা। এই অনুষ্ঠানে সব ধর্মের মানুষ একাত্ম হয়। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান শেষ করতে সিভিল প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও আয়োজকদের যৌথ সমন্বয়ে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

১৯৪২ সালে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্ত এলাকায় প্রায় ৪২ একর জমির ওপর পর্তুগালের ফাতেমা নগরীর আদলে সাধু লিওর এই ধর্মপল্লী গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতি বছর অক্টোবরের শেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারে এই বার্ষিক ফাতেমা রানীর তীর্থোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।