Dhaka
,
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
যুব ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর প্রথম সেমিফাইনালে ধরেন্ডা যুব কল্যাণ সংঘের জয়
৭৮তম আন্তর্জাতিক ক্রেডিট ইউনিয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কালবের উদ্যোগে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
রোনালদোর পর্তুগাল দলে না ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন তাঁর বোন
অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে উঠছেন পোপ চতুর্দশ লিও
টঙ্গীতে ওষুধ কারখানার আগুন চার ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে
আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতা ঘোষণার বর্ণনা বদলাবে, এবার যেভাবে থাকছে
চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে প্রায় ১১% হতে পারে, আইএমএফের পূর্বাভাস
অর্থনীতিতে যৌথভাবে নোবেল পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড
উপাচার্যকে ভেতরে রেখে ভবনে তালা দিলেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা, ‘নতুন ভিসি প্রত্যাখ্যান’ স্লোগান
জ্ঞানেশের বিদায় ও মোদি সরকারের পতন অনিবার্য, এরপর শুরু হবে গণতন্ত্র মেরামতের কাজ: রাহুল গান্ধী
স্মৃতি আর গৌরবের ১০০ বছর: বান্দুরায় ক্ষুদ্রপুষ্প সেমিনারীর শতবর্ষ জয়ন্তী উৎসব সম্পন্ন
ঐতিহ্য, গৌরব আর ভালোবাসার এক শতাব্দী পেরিয়ে ঢাকার নবাবগঞ্জের বান্দুরায় অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো ক্ষুদ্রপুষ্প সেমিনারীর শতবর্ষের গৌরবময় জয়ন্তী উৎসব-২০২৬। ১ ও ২ অক্টোবর, দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এই ঐতিহাসিক উৎসবকে ঘিরে পুরো সেমিনারী প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় এক অভূতপূর্ব মিলনমেলার সৃষ্টি হয়েছিল। রঙিন আলোকসজ্জা, তোরণ, ব্যানার আর ফেস্টুনে সেজেছিল পুরো চত্বর।

এবারের শতবর্ষ জয়ন্তী উৎসবের মূল ভাবনা ছিল “স্মৃতিতে বান্দুরা সেমিনারী”। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শতবর্ষের এই ঐতিহাসিক ক্ষণটিকে স্মরণীয় করে রাখা হয়।
প্রথম দিনের যাজকীয় সহভাগিতা : উৎসবের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠানমালা মূলত যাজকদের জন্য নির্ধারিত ছিল। এদিন বিকেল ৪:০০ টায় বিভিন্ন ধর্মপল্লী থেকে আগত যাজকদের আগমন ও রেজিস্ট্রেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। বিকেল ৫:০০ টায় শুরু হয় “স্মৃতিতে বান্দুরা সেমিনারী” শীর্ষক বিশেষ আড্ডা ও সহভাগিতা। যেখানে বক্তারা সেমিনারীর অতীত গৌরব ও সোনালী দিনগুলোর স্মৃতি রোমন্থন করেন। সন্ধ্যায় ‘পবিত্র ঘণ্টা’ প্রার্থনার মাধ্যমে প্রথম দিনের আয়োজন সফলভাবে শেষ হয়।

দ্বিতীয় দিনের সর্বজনীন উৎসব : উৎসবের দ্বিতীয় দিন, ২ অক্টোবর (শুক্রবার) উৎসব প্রাঙ্গণ খ্রিষ্টভক্ত, প্রাক্তন সেমিনারীয়ান ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। সকাল ৯:০০ টায় বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর শততম জয়ন্তী উৎসবের ফলক উন্মোচন ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও শান্তির পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয় । এ সময়ে ছোট সোনামনিরা উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে সবাইকে বরণ করে নেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার পরম শ্রদ্ধেয় আর্চবিশপ বিজয় এন ডি.ক্রুজ, ওএমআই, ভাতিকানের রাস্ট্রদূত আর্চবিশপ কেভিন রাণ্ডাল, ঢাকার সহকারী বিশপ সুব্রত বি. গমেজ, বিশপ থিওটোনিয়াস গমেজ সিএসসি, সিলেট ধর্মপ্রদেশের বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ, মণ্সিনিয়র গাব্রিয়েল কোড়াইয়া, ক্ষুদ্রপুষ্প সেমিনারীর পরিচালক ফাদার ঝলক আন্তনী দেশাই সহ আগত যাজকবৃন্দ প্রাক্তন ও বর্তমান সেমিনারীয়ানগণ এবং খ্রিষ্টভক্তগণ।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সকাল ৯:৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় ‘পবিত্র খ্রিস্টযাগ’। পবিত্র খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করেন পরম শ্রদ্ধেয় আর্চবিশপ বিজয় এন ডি.ক্রুজ, ওএমআই। পুন্যবেদিতে এ সময়ে সহায়তা করেন আর্চবিশপ কেভিন রান্ডাল সহ অন্যান্য বিশপ ও যাজকগণ। তিনি তার উপদেশবাণীতে ক্ষুদ্রপুষ্প সেমিনারী সংক্ষিপ্ত ইতিহাস অতি প্রাঞ্জল ভাষায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্ষুদ্রপুষ্প সেমিনারীর মধ্য দিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার ছাত্র পড়াশুনার মাধ্যমে তাদের ব্রতীয় জীবনের লক্ষ্য নিয়ে এখানে এসেছিলেন এবং এর মধ্য থেকে অনেকেই যাজক না হতে পারলেও আজ অনেকেই স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। কেউ রাজনীতিবিদ, কেউ সামাজিক নেতৃত্বে, কেউ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আজ পরিবার গঠনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পবিত্র খ্রিষ্টযাগ শেষে শতবর্ষের বিশেষ ‘স্মরণিকা উন্মোচন’ করা হয় এবং এ সময়ে পোপীয় বাণী পাঠ করে শুনান আর্চবিশপ রান্ডাল। দুপুরে শুরু হয় উন্মুক্ত ‘স্মৃতি চারণ’ পর্ব। যেখানে যাজকসহ প্রাক্তন ছাত্ররা তাদের পুরনো দিনগুলোর আবেগঘন স্মৃতি তুলে ধরেন।


বিকেল ৪টায় শুরু হয় জমকালো ‘সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র্যাফেল ড্র’। অনুষ্ঠানে স্থানীয় ইউএনও সহ আর্চবিশপগণ, বিশপ, যাজকবৃন্দ, প্রাক্তন সেমিনারীয়ান, খ্রিষ্টভক্তগণ উপস্থিত ছিলেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বর্তমান সেমিনারীয়াগণ নৃত্য পরিবেশন করেন ও প্রাক্তন সেমিনারীয়ানগণ জারিগান পরিবেশন করেন। এছাড়াও আঠারগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন ধর্মপল্লীর অংশগ্রহণে শিল্পীগণ তাদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনার মাধ্যমে ঐতিহাসিক ও মহিমান্বিত উৎসবের সফল সমাপ্তি ঘটে।
ঐতিহাসিক এই শতবর্ষ জয়ন্তী উৎসবে দি মেট্রোপলিটান খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিঃ এর চেয়ারম্যান মি. আগষ্টিন প্রতাপ গমেজ, ভাইস-চেয়ারম্যান মি. ডিউক পি. রোজারিও ও সেক্রেটারি মি. পেপিলন হেনরি পিউরীফিকেশন, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মি. গিলবার্ট গমেজ, ক্যাশ কন্ট্রোল ম্যানেজার মি. আশীষ এ কোড়াইয়া দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
চেয়ারম্যান মি. আগষ্টিন প্রতাপ গমেজ তিনি মঞ্চে তার অনুভূতিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি প্রথমেই হাউজিং সোসাইটির পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি প্রাক্তন সকল শিক্ষার্থীসহ বর্তমান সেমিনারীয়ানদের অভিনন্দন জানান। প্রাক্তন সেমিনারী হিসেবে আজ এই গৌরবময় জয়ন্তী উৎসবে অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করছেন। তিনি তার পড়াশুনাকালীন সমেয় স্মৃতিময় বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

পরিশেষে, শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মন্সিনিয়র গাব্রিয়েল কোড়াইয়া ও সচিব ফাদার ঝলক আন্তনী দেশাই উৎসবটি সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন করায় দেশ-বিদেশ থেকে আগত সকল অতিথি, প্রাক্তন ছাত্র, শুভানুধ্যায়ী ও ধর্মপল্লীর খ্রিষ্টভক্তদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানটি দি মেট্রোপলিটান খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিঃ-এর নিজস্ব অনলাইন পেইজ-নীড় সংবাদ সরাসরি সম্প্রচার করেন।
Tag :






















