Dhaka , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রোনালদোর বিদায় এত সহজে হতে দেবে না পর্তুগাল কংগ্রেসে হারের মাধ্যমে কি ট্রাম্পের শেষের শুরু হয়ে গেল বড়দিন উপলক্ষে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী মিরপুরের কালশীতে এক পুলিশকে ঘিরে ধরে মারধর করেন কয়েকজন, জানালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ পরলোকগত ভক্তবৃন্দের স্মরণ দিবস: বিশ্বাস, প্রার্থনা ও চিরন্তন আশার এক বিশেষ দিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প কি কংগ্রেসে (সংসদে) নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন? রাজধানীতে ৭ কোম্পানির অধীনে চালু হলো ৮৬১ বাস, চলবে সাত রুটে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আবার অবরোধ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

এবার কী আইফোনের দাম বাড়বে, যা বললেন টিম কুক

রিপোর্ট: নীড় সংবাদ ডেস্ক

আইফোন, ম্যাকবুকের মতো পণ্য উৎপাদনকারী মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল পণ্যের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামাল দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে সাক্ষাৎকারে টিম কুক এ তথ্য জানান। খবর রয়টার্স।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ডেটা সেন্টারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এতে ভোক্তাদের জন্য যারা প্রযুক্তিপণ্য তৈরি করে, তারা প্রয়োজনীয় উপাদানের সরবরাহ সংকটে পড়েছে। সেই সঙ্গে এসব উপকরণের দামও বেড়েছে অনেকটা।

এর আগে গাড়ি কোম্পানি, খুচরা বিক্রেতা ও ইলেকট্রনিকস খাতের বিভিন্ন সংগঠন সতর্ক করেছিল, মেমোরি চিপের চাহিদা বাড়তে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। শুধু তাই নয়, সরবরাহব্যবস্থাও ব্যাহত হতে পারে।

টিম কুক বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, দাম না বাড়িয়ে আর উপায় নেই। সরবরাহকারীদের কাছ থেকে যেসব পণ্য নেওয়া হয়, সেগুলোর দাম বেড়ে গেছে। সেই চাপ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এত দিন গ্রাহকদের ওপর বাড়তি বোঝা না চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু এই অবস্থা আর বেশিদিন টিকবে না।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দায়িত্ব ছাড়বেন টিম কুক। তাঁর জায়গায় আসবেন জন টার্নাস। তবে কবে থেকে দাম বাড়বে, কতটা বাড়বে কিংবা কোন কোন পণ্যে এর প্রভাব পড়বে—সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি কুক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে অ্যাপল তাদের প্রথম ফোল্ডিং আইফোন বাজারে আনতে পারে। একই সঙ্গে উন্মোচিত হতে পারে আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স।

কুক জানান, বিশেষ করে ডি-র‍্যামের (এমন একধরনের মেমোরি, ডিভাইস চালু থাকা অবস্থায় যা দ্রুত ডেটা সংরক্ষণ ও ব্যবহারে সহায়তা করে) সরবরাহ–সংকট অ্যাপলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। উচ্চগতির মেমোরির বড় অংশ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–চালিত সার্ভারে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কুক আরও বলেন, একদিকে সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে গ্রাহকদের ডিভাইসের চাহিদা অব্যাহত আছে। ফলে মেমোরি চিপ নির্মাতারা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ভোক্তাপণ্যের জন্য মেমোরির দাম ও সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হওয়া দরকার বলে তিনি মত দেন।

চীনে বেশ কয়েকটি বড় মেমোরি ও স্টোরেজ কোম্পানি থাকলেও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর পক্ষে তাদের সঙ্গে কাজ করা সহজ নয়। এ বিষয়ে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়া উচিত কি না জানতে চাইলে কুক বলেন, সব বিকল্পই বিবেচনায় রাখা উচিত। সরবরাহের সব উৎসই আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে।

এ ছাড়া কুক ইঙ্গিত দিয়েছেন, মেমোরি সরবরাহ বাড়াতে অ্যাপল তাদের নগদ অর্থভান্ডার ব্যবহার করতে প্রস্তুত। তিনি স্পষ্ট করেছেন, নিজেদের অর্থ ও চিপ প্রযুক্তি ব্যবহার করে আলাদা মেমোরি বা স্টোরেজ কারখানা গড়ার পরিকল্পনা তাদের নেই।

চীনের সঙ্গে ঝামেলা বাড়াচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র

চীনের বেশ কিছু কোম্পানিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি আরও কিছু চীনা কোম্পানিকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

রয়টার্সের আরেক সংবাদে বলা হয়েছে, আপাতত সেই কোম্পানিগুলো কালো তালিকাভুক্ত করছে না যুক্তরাষ্ট্র। এ তালিকায় আছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ডিপসিক, মেমোরি চিপ কোম্পানি চ্যাংসিন মেমোরি টেকনোলজিসসহ শতাধিক কোম্পানি। ট্রাম্প প্রশাসন বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনা আর না বাড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

এবার কী আইফোনের দাম বাড়বে, যা বললেন টিম কুক

Update Time : ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

আইফোন, ম্যাকবুকের মতো পণ্য উৎপাদনকারী মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল পণ্যের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামাল দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে সাক্ষাৎকারে টিম কুক এ তথ্য জানান। খবর রয়টার্স।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ডেটা সেন্টারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এতে ভোক্তাদের জন্য যারা প্রযুক্তিপণ্য তৈরি করে, তারা প্রয়োজনীয় উপাদানের সরবরাহ সংকটে পড়েছে। সেই সঙ্গে এসব উপকরণের দামও বেড়েছে অনেকটা।

এর আগে গাড়ি কোম্পানি, খুচরা বিক্রেতা ও ইলেকট্রনিকস খাতের বিভিন্ন সংগঠন সতর্ক করেছিল, মেমোরি চিপের চাহিদা বাড়তে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। শুধু তাই নয়, সরবরাহব্যবস্থাও ব্যাহত হতে পারে।

টিম কুক বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, দাম না বাড়িয়ে আর উপায় নেই। সরবরাহকারীদের কাছ থেকে যেসব পণ্য নেওয়া হয়, সেগুলোর দাম বেড়ে গেছে। সেই চাপ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এত দিন গ্রাহকদের ওপর বাড়তি বোঝা না চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু এই অবস্থা আর বেশিদিন টিকবে না।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দায়িত্ব ছাড়বেন টিম কুক। তাঁর জায়গায় আসবেন জন টার্নাস। তবে কবে থেকে দাম বাড়বে, কতটা বাড়বে কিংবা কোন কোন পণ্যে এর প্রভাব পড়বে—সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি কুক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে অ্যাপল তাদের প্রথম ফোল্ডিং আইফোন বাজারে আনতে পারে। একই সঙ্গে উন্মোচিত হতে পারে আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স।

কুক জানান, বিশেষ করে ডি-র‍্যামের (এমন একধরনের মেমোরি, ডিভাইস চালু থাকা অবস্থায় যা দ্রুত ডেটা সংরক্ষণ ও ব্যবহারে সহায়তা করে) সরবরাহ–সংকট অ্যাপলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। উচ্চগতির মেমোরির বড় অংশ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–চালিত সার্ভারে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কুক আরও বলেন, একদিকে সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে গ্রাহকদের ডিভাইসের চাহিদা অব্যাহত আছে। ফলে মেমোরি চিপ নির্মাতারা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ভোক্তাপণ্যের জন্য মেমোরির দাম ও সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হওয়া দরকার বলে তিনি মত দেন।

চীনে বেশ কয়েকটি বড় মেমোরি ও স্টোরেজ কোম্পানি থাকলেও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর পক্ষে তাদের সঙ্গে কাজ করা সহজ নয়। এ বিষয়ে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়া উচিত কি না জানতে চাইলে কুক বলেন, সব বিকল্পই বিবেচনায় রাখা উচিত। সরবরাহের সব উৎসই আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে।

এ ছাড়া কুক ইঙ্গিত দিয়েছেন, মেমোরি সরবরাহ বাড়াতে অ্যাপল তাদের নগদ অর্থভান্ডার ব্যবহার করতে প্রস্তুত। তিনি স্পষ্ট করেছেন, নিজেদের অর্থ ও চিপ প্রযুক্তি ব্যবহার করে আলাদা মেমোরি বা স্টোরেজ কারখানা গড়ার পরিকল্পনা তাদের নেই।

চীনের সঙ্গে ঝামেলা বাড়াচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র

চীনের বেশ কিছু কোম্পানিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি আরও কিছু চীনা কোম্পানিকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

রয়টার্সের আরেক সংবাদে বলা হয়েছে, আপাতত সেই কোম্পানিগুলো কালো তালিকাভুক্ত করছে না যুক্তরাষ্ট্র। এ তালিকায় আছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ডিপসিক, মেমোরি চিপ কোম্পানি চ্যাংসিন মেমোরি টেকনোলজিসসহ শতাধিক কোম্পানি। ট্রাম্প প্রশাসন বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনা আর না বাড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।