Dhaka , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি আদৌ মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে সোসাইটির কর্মীদের অংশগ্রহণে দুদিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন কুয়ালালামপুরে এশিয়ান ক্রেডিট ইউনিয়ন ফোরাম-২০২৬: বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ২৫ কোটি টাকার যে কৃষি প্রকল্পে সাফল্যের গল্প বানিয়ে বলতে হয় মাফিয়া গ্যাংয়ের হেনস্তার শিকার হওয়া প্রমাণ করে বাঁধন সঠিক পথে ছিলেন: তথ্য উপদেষ্টা শ্রদ্ধা ও প্রার্থনায় ঈশ্বরের সেবক আর্চবিশপ টি এ গাঙ্গুলীর ৪৯তম মহা প্রয়াণ দিবস পালিত ঈশ্বরের সেবক থিওটোনিয়াস অমল গাঙ্গুলীর ঊনপঞ্চাশতম মহা প্রয়াণ দিবস আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা মেসির ঢাকা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের নবনিযুক্ত যুগ্ম নিবন্ধকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ

এনবিআর ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত

রিপোর্ট: নীড় সংবাদ ডেস্ক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নতুন কাঠামোয় একটি হবে রাজস্ব নীতি বিভাগ, অন্যটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজস্ব নীতি বিভাগ সরকারের ‘চিন্তনকেন্দ্র’ হিসেবে কাজ করবে। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত এ প্রতিষ্ঠান একটি ভারসাম্যপূর্ণ, প্রতিযোগিতামূলক ও উন্নয়নবান্ধব কর কাঠামো প্রণয়ন করবে। অন্যদিকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ হবে ‘কার্যকরী দল’, যারা কার্যকরভাবে রাজস্ব আদায় করবে।

 

তিনি বলেন, কর প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। রাজস্ব নীতি প্রণয়নে অর্থনীতিবিদ, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, গবেষক এবং শিল্প-বাণিজ্য সংগঠনের বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হবে।

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির আকার বাড়লেও সেই অনুপাতে রাষ্ট্রের রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বাড়েনি। এ ব্যবধান কমাতে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর শুধু বাড়তি করের বোঝা চাপানো যাবে না। বরং করের আওতা সম্প্রসারণ, কর অব্যাহতি যৌক্তিক করা, কর ফাঁকি ও কর পরিহার বন্ধ এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে করদাতাদের নিয়ম মেনে কর দেয়ার প্রবণতা বাড়াতে হবে।

 

২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে আমির খসরু বলেন, এটি আগের বছরের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যটি উচ্চাভিলাষী হলেও তা ইচ্ছাকৃতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে যেতে চায়। উন্নয়নের অর্থায়ন নিজেদের সম্পদ থেকেই করতে হবে।

 

রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কারে আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ ও অংশীদারিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া করদাতাদের কর্মকর্তাদের কাছে যাওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করার কথাও জানান তিনি।

 

আমির খসরু বলেন, সরকারের লক্ষ্য সম্পূর্ণ যোগাযোগমুক্ত ও ব্যক্তিনির্ভরতা-বিহীন রাজস্ব প্রশাসন গড়ে তোলা। এরই মধ্যে ই-ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা, আসিকুডা ওয়ার্ল্ড, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো এবং আধুনিক স্ক্যানিং পদ্ধতির মতো ব্যবসাবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার অন্যতম বড় কাঠামোগত দুর্বলতা কম কর-জিডিপি অনুপাত উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে। এ হার বিশ্বের অন্যতম নিম্ন।

 

তিনি জানান, ২০২৩ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে গড় কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। বিপরীতে বাংলাদেশের ছিল মাত্র ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব সম্মেলন শুধু রাজস্ব আদায়ের হিসাব-নিকাশের বিষয় নয়; এটি জাতীয় ঐকমত্য গঠনেরও একটি প্ল্যাটফর্ম। নিজস্ব অর্থায়নে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ নির্ধারণে এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

এনবিআর ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত

Update Time : ০৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নতুন কাঠামোয় একটি হবে রাজস্ব নীতি বিভাগ, অন্যটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজস্ব নীতি বিভাগ সরকারের ‘চিন্তনকেন্দ্র’ হিসেবে কাজ করবে। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত এ প্রতিষ্ঠান একটি ভারসাম্যপূর্ণ, প্রতিযোগিতামূলক ও উন্নয়নবান্ধব কর কাঠামো প্রণয়ন করবে। অন্যদিকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ হবে ‘কার্যকরী দল’, যারা কার্যকরভাবে রাজস্ব আদায় করবে।

 

তিনি বলেন, কর প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। রাজস্ব নীতি প্রণয়নে অর্থনীতিবিদ, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, গবেষক এবং শিল্প-বাণিজ্য সংগঠনের বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হবে।

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির আকার বাড়লেও সেই অনুপাতে রাষ্ট্রের রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বাড়েনি। এ ব্যবধান কমাতে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর শুধু বাড়তি করের বোঝা চাপানো যাবে না। বরং করের আওতা সম্প্রসারণ, কর অব্যাহতি যৌক্তিক করা, কর ফাঁকি ও কর পরিহার বন্ধ এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে করদাতাদের নিয়ম মেনে কর দেয়ার প্রবণতা বাড়াতে হবে।

 

২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে আমির খসরু বলেন, এটি আগের বছরের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যটি উচ্চাভিলাষী হলেও তা ইচ্ছাকৃতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে যেতে চায়। উন্নয়নের অর্থায়ন নিজেদের সম্পদ থেকেই করতে হবে।

 

রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কারে আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ ও অংশীদারিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া করদাতাদের কর্মকর্তাদের কাছে যাওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করার কথাও জানান তিনি।

 

আমির খসরু বলেন, সরকারের লক্ষ্য সম্পূর্ণ যোগাযোগমুক্ত ও ব্যক্তিনির্ভরতা-বিহীন রাজস্ব প্রশাসন গড়ে তোলা। এরই মধ্যে ই-ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা, আসিকুডা ওয়ার্ল্ড, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো এবং আধুনিক স্ক্যানিং পদ্ধতির মতো ব্যবসাবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার অন্যতম বড় কাঠামোগত দুর্বলতা কম কর-জিডিপি অনুপাত উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে। এ হার বিশ্বের অন্যতম নিম্ন।

 

তিনি জানান, ২০২৩ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে গড় কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। বিপরীতে বাংলাদেশের ছিল মাত্র ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব সম্মেলন শুধু রাজস্ব আদায়ের হিসাব-নিকাশের বিষয় নয়; এটি জাতীয় ঐকমত্য গঠনেরও একটি প্ল্যাটফর্ম। নিজস্ব অর্থায়নে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ নির্ধারণে এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।