Dhaka , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি আদৌ মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে সোসাইটির কর্মীদের অংশগ্রহণে দুদিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন কুয়ালালামপুরে এশিয়ান ক্রেডিট ইউনিয়ন ফোরাম-২০২৬: বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ২৫ কোটি টাকার যে কৃষি প্রকল্পে সাফল্যের গল্প বানিয়ে বলতে হয় মাফিয়া গ্যাংয়ের হেনস্তার শিকার হওয়া প্রমাণ করে বাঁধন সঠিক পথে ছিলেন: তথ্য উপদেষ্টা শ্রদ্ধা ও প্রার্থনায় ঈশ্বরের সেবক আর্চবিশপ টি এ গাঙ্গুলীর ৪৯তম মহা প্রয়াণ দিবস পালিত ঈশ্বরের সেবক থিওটোনিয়াস অমল গাঙ্গুলীর ঊনপঞ্চাশতম মহা প্রয়াণ দিবস আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা মেসির ঢাকা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের নবনিযুক্ত যুগ্ম নিবন্ধকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এ আই) ‘আমাদের প্রতিবন্ধকতা হল সত্যকে অনুধাবন করা।’

রিপোর্ট: নীড় সংবাদ ডেস্ক

ফাদার ক্ল্যারেন্স দেবাদাস বিশ্বের অন্যতম ভাষাগত ও সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্র্যময় অঞ্চল এশিয়া জুড়ে যোগাযোগ শক্তিশালী করতে এআই-এর সম্ভাবনার ওপরও আলোকপাত করেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বারা সৃষ্ট সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হল সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা – ফেডারেশন অফ এশিয়ান বিশপস কনফারেন্সেস (এফ এ বি সি)-র সহযোগী মহাসচিব এবং এর সিনোডালিটি দপ্তরের নির্বাহী সচিব ফাদার ক্ল্যারেন্স দেবাদাস এফএবিসি-র দ্বাদশ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন।

 

বিগত ২৬ জুলাই, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় আওয়ার লেডি অফ দ্য অ্যাজাম্পশন ক্যাথেড্রালের প্যাস্টোরাল সেন্টারে বক্তৃতা দেওয়ার সময় ফাদার দেবাদাস বলেন, মণ্ডলীর উচিৎ বিচার-বিবেচনা এবং সুসমাচারে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত থাকার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে একটি মূল্যবান হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করা।

 

প্রতিনিধিবৃন্দ জাকার্তার ফ্রেন্ডশিপ সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে নিকটবর্তী ইস্তিকলাল মসজিদে তাদের প্রতীকী তীর্থযাত্রা সম্পন্ন করার পর অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত সংবাদ সম্মেলনে এফ এ বি সি-র সহ-সভাপতি কার্ডিনাল পাবলো ভার্জিলিও ডেভিড এবং ইন্দোনেশিয়ার ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্সের সভাপতি বিশপ আন্তোনিয়াস সুবিয়ান্তো বুঞ্জামিনও উপস্থিত ছিলেন।

 

মণ্ডলীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফাদার দেবাদাস জোর দিয়ে বলেন যে, মণ্ডলী প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বিরোধী নয়।

 

তিনি বলেন, “এ আই একটি হাতিয়ার,” এবং এর নৈতিক মূল্য সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে মানুষ কীভাবে এটিকে ব্যবহার করতে বেছে নেয় তার ওপর।

 

তিনি মণ্ডলীর উদ্দেশ্য পূরণে প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরতে কোভিড-১৯ মহামারীর কথা উল্লেখ করেন। সেই সময়ে, লাইভস্ট্রিম করা গণপ্রার্থনা বয়স্ক ক্যাথলিক, অসুস্থ ব্যক্তি এবং যারা সশরীরে গির্জায় উপস্থিত হতে অক্ষম ছিলেন, তাদেরকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও নিজ নিজ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সাথে সংযুক্ত থাকতে সক্ষম করেছিল।

 

ফাদার দেবাদাস বিশ্বের অন্যতম ভাষাগত ও সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্র্যময় অঞ্চল এশিয়া জুড়ে যোগাযোগ শক্তিশালী করতে এআই-এর সম্ভাবনার ওপরও আলোকপাত করেছেন।

 

তিনি বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মণ্ডলীর নথিগুলোকে একাধিক এশীয় ভাষায় অনুবাদ করতে সাহায্য করতে পারে, যার ফলে মহাদেশ জুড়ে স্থানীয় মণ্ডলীগুলোর কাছে যাজকীয় সম্পদ এবং আনুষ্ঠানিক শিক্ষা আরও সহজলভ্য হবে।

 

এই সুবিধাগুলো থাকা সত্ত্বেও, তিনি সতর্ক করেছেন যে ডিজিটাল যুগ কেবল তথ্য ব্যবস্থাপনার চেয়েও অনেক বড় প্রতিবন্ধকতা উপস্থাপন করে।

 

“আজ আমাদের সমস্যা আর তথ্যের অভাব নয়, বরং সত্যকে অনুধাবন করার ক্ষমতা,” ফাদার দেবাদাস বলেন।

 

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এমন এক যুগে যখন ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য এবং ভুল তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি ও আদান-প্রদান করা যায়, তখন বিচক্ষণতা একটি অপরিহার্য খ্রিষ্টীয় সদ্গুণে পরিণত হয়েছে।

 

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা সৃষ্ট সবকিছু গ্রহণ করার পরিবর্তে ক্যাথলিকদের অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে যে তথ্যটি সত্য, গঠনমূলক এবং মানব মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল কিনা।

 

ফাদার দেবাদাসের ভাবনাগুলো কার্ডিনাল ডেভিডের বক্তব্যের পরিপূরক ছিল, যিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে, নৈতিক দায়িত্ববোধ দ্বারা পরিচালিত হলে এবং মানবতার সেবায় ব্যবহৃত হলে এআই-কে হুমকি হিসেবে নয়, বরং একটি সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত।

 

সম্মিলিতভাবে, তাদের মন্তব্যগুলো এফ এ বি সি সমাবেশের একটি বৃহত্তর বার্তা প্রতিফলিত করেছে: এশিয়ার মণ্ডলীর উচিৎ উদীয়মান প্রযুক্তির সঙ্গে আত্মবিশ্বাসের সাথে যুক্ত হওয়া, এবং একই সাথে এটিও নিশ্চিত করা যে তা যেন সুসমাচারের মূল্যবোধ, মানবিক মর্যাদা এবং শ্রবণ, সংলাপ ও সম্মিলিত বিবেচনার সিনোডাল অনুশীলনের সাথে প্রোথিত থাকে।

 

ফাদার দেবাদাসের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ কেবল প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়, বরং বিচক্ষণ ও নৈতিক বিচার-বিবেচনা করতে সক্ষম মানুষ গড়ে তোলা।

 

তিনি বলেন, যেহেতু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দৈনন্দিন জীবনে ক্রমশ একীভূত হচ্ছে, তাই মণ্ডলীর কাজ শুধু নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করাই নয়, বরং মানুষকে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করা, মানবিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা এবং প্রযুক্তি যেন জনকল্যাণে কাজ করে তা নিশ্চিত করাও।

 

প্রতিবেদন – আমাদিয়া প্রাণাস্তিতি। অনুবাদ – অতনু দাস।

রেডিও ভেরিতাস এশিয়া (আরভিএ)

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এ আই) ‘আমাদের প্রতিবন্ধকতা হল সত্যকে অনুধাবন করা।’

Update Time : ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বারা সৃষ্ট সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হল সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা – ফেডারেশন অফ এশিয়ান বিশপস কনফারেন্সেস (এফ এ বি সি)-র সহযোগী মহাসচিব এবং এর সিনোডালিটি দপ্তরের নির্বাহী সচিব ফাদার ক্ল্যারেন্স দেবাদাস এফএবিসি-র দ্বাদশ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন।

 

বিগত ২৬ জুলাই, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় আওয়ার লেডি অফ দ্য অ্যাজাম্পশন ক্যাথেড্রালের প্যাস্টোরাল সেন্টারে বক্তৃতা দেওয়ার সময় ফাদার দেবাদাস বলেন, মণ্ডলীর উচিৎ বিচার-বিবেচনা এবং সুসমাচারে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত থাকার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে একটি মূল্যবান হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করা।

 

প্রতিনিধিবৃন্দ জাকার্তার ফ্রেন্ডশিপ সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে নিকটবর্তী ইস্তিকলাল মসজিদে তাদের প্রতীকী তীর্থযাত্রা সম্পন্ন করার পর অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত সংবাদ সম্মেলনে এফ এ বি সি-র সহ-সভাপতি কার্ডিনাল পাবলো ভার্জিলিও ডেভিড এবং ইন্দোনেশিয়ার ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্সের সভাপতি বিশপ আন্তোনিয়াস সুবিয়ান্তো বুঞ্জামিনও উপস্থিত ছিলেন।

 

মণ্ডলীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফাদার দেবাদাস জোর দিয়ে বলেন যে, মণ্ডলী প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বিরোধী নয়।

 

তিনি বলেন, “এ আই একটি হাতিয়ার,” এবং এর নৈতিক মূল্য সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে মানুষ কীভাবে এটিকে ব্যবহার করতে বেছে নেয় তার ওপর।

 

তিনি মণ্ডলীর উদ্দেশ্য পূরণে প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরতে কোভিড-১৯ মহামারীর কথা উল্লেখ করেন। সেই সময়ে, লাইভস্ট্রিম করা গণপ্রার্থনা বয়স্ক ক্যাথলিক, অসুস্থ ব্যক্তি এবং যারা সশরীরে গির্জায় উপস্থিত হতে অক্ষম ছিলেন, তাদেরকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও নিজ নিজ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সাথে সংযুক্ত থাকতে সক্ষম করেছিল।

 

ফাদার দেবাদাস বিশ্বের অন্যতম ভাষাগত ও সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্র্যময় অঞ্চল এশিয়া জুড়ে যোগাযোগ শক্তিশালী করতে এআই-এর সম্ভাবনার ওপরও আলোকপাত করেছেন।

 

তিনি বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মণ্ডলীর নথিগুলোকে একাধিক এশীয় ভাষায় অনুবাদ করতে সাহায্য করতে পারে, যার ফলে মহাদেশ জুড়ে স্থানীয় মণ্ডলীগুলোর কাছে যাজকীয় সম্পদ এবং আনুষ্ঠানিক শিক্ষা আরও সহজলভ্য হবে।

 

এই সুবিধাগুলো থাকা সত্ত্বেও, তিনি সতর্ক করেছেন যে ডিজিটাল যুগ কেবল তথ্য ব্যবস্থাপনার চেয়েও অনেক বড় প্রতিবন্ধকতা উপস্থাপন করে।

 

“আজ আমাদের সমস্যা আর তথ্যের অভাব নয়, বরং সত্যকে অনুধাবন করার ক্ষমতা,” ফাদার দেবাদাস বলেন।

 

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এমন এক যুগে যখন ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য এবং ভুল তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি ও আদান-প্রদান করা যায়, তখন বিচক্ষণতা একটি অপরিহার্য খ্রিষ্টীয় সদ্গুণে পরিণত হয়েছে।

 

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা সৃষ্ট সবকিছু গ্রহণ করার পরিবর্তে ক্যাথলিকদের অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে যে তথ্যটি সত্য, গঠনমূলক এবং মানব মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল কিনা।

 

ফাদার দেবাদাসের ভাবনাগুলো কার্ডিনাল ডেভিডের বক্তব্যের পরিপূরক ছিল, যিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে, নৈতিক দায়িত্ববোধ দ্বারা পরিচালিত হলে এবং মানবতার সেবায় ব্যবহৃত হলে এআই-কে হুমকি হিসেবে নয়, বরং একটি সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত।

 

সম্মিলিতভাবে, তাদের মন্তব্যগুলো এফ এ বি সি সমাবেশের একটি বৃহত্তর বার্তা প্রতিফলিত করেছে: এশিয়ার মণ্ডলীর উচিৎ উদীয়মান প্রযুক্তির সঙ্গে আত্মবিশ্বাসের সাথে যুক্ত হওয়া, এবং একই সাথে এটিও নিশ্চিত করা যে তা যেন সুসমাচারের মূল্যবোধ, মানবিক মর্যাদা এবং শ্রবণ, সংলাপ ও সম্মিলিত বিবেচনার সিনোডাল অনুশীলনের সাথে প্রোথিত থাকে।

 

ফাদার দেবাদাসের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ কেবল প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়, বরং বিচক্ষণ ও নৈতিক বিচার-বিবেচনা করতে সক্ষম মানুষ গড়ে তোলা।

 

তিনি বলেন, যেহেতু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দৈনন্দিন জীবনে ক্রমশ একীভূত হচ্ছে, তাই মণ্ডলীর কাজ শুধু নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করাই নয়, বরং মানুষকে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করা, মানবিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা এবং প্রযুক্তি যেন জনকল্যাণে কাজ করে তা নিশ্চিত করাও।

 

প্রতিবেদন – আমাদিয়া প্রাণাস্তিতি। অনুবাদ – অতনু দাস।

রেডিও ভেরিতাস এশিয়া (আরভিএ)