Dhaka , শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
যুব ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর প্রথম সেমিফাইনালে ধরেন্ডা যুব কল্যাণ সংঘের জয় ৭৮তম আন্তর্জাতিক ক্রেডিট ইউনিয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কালবের উদ্যোগে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রোনালদোর পর্তুগাল দলে না ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন তাঁর বোন অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে উঠছেন পোপ চতুর্দশ লিও টঙ্গীতে ওষুধ কারখানার আগুন চার ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতা ঘোষণার বর্ণনা বদলাবে, এবার যেভাবে থাকছে চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে প্রায় ১১% হতে পারে, আইএমএফের পূর্বাভাস অর্থনীতিতে যৌথভাবে নোবেল পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড উপাচার্যকে ভেতরে রেখে ভবনে তালা দিলেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা, ‘নতুন ভিসি প্রত্যাখ্যান’ স্লোগান জ্ঞানেশের বিদায় ও মোদি সরকারের পতন অনিবার্য, এরপর শুরু হবে গণতন্ত্র মেরামতের কাজ: রাহুল গান্ধী

‘কিশোর গ্যাংয়ের’ দৌরাত্ম্যের মধ্যে সন্তানকে রক্ষায় দুই মায়ের লড়াই

রিপোর্ট: নীড় সংবাদ ডেস্ক

কিশোর মোহাম্মদ ওশান (১৬) স্কুল থেকে বাসায় ফিরছিল। ঢাকার মোহাম্মদপুরে সেন্ট জোসেফ স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে সে।

ফেরার পথে ওশানকে অনুসরণ করছিলেন এক তরুণ। বারবার একটি কাগজ দেখার জন্য বলছিলেন। তবে তাঁর গতিবিধি ছিল সন্দেহজনক। ওশান একপর্যায়ে দৌড়ে একটি দোকানে ঢুকে যায় এবং দোকানে থাকা লোকদের সাহায্য চায়। দোকানের লোকজন বেরিয়ে এসে দেখে, ওই তরুণ সটকে পড়েছেন।

মাস তিনেক আগের এই ঘটনা উল্লেখ করে ওশানের মা তামান্না ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, ছেলের মুখে এটা শুনে তিনি ভয় পেয়েছিলেন। কারণ, এ ঘটনার আগে ছেলের দুই বন্ধু দুই ঘটনায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়। একজনের কাছ থেকে মুঠোফোন এবং একজনের কাছ থেকে সাইকেল ছিনিয়ে নেয় তাদের সমবয়সীরাই।

তামান্না ইয়াসমিন ও মো. এনায়েত উল্লাহ দম্পতির বাস মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে। ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে নিজের বাসায় বসে তামান্না যখন কথাগুলো বলছিলেন, তখন পাশেই বসা ছিলেন এনায়েত উল্লাহ ও ওশান। তামান্না বলেন, ‘খুব আতঙ্ক লাগে, কত আর চোখে চোখে রাখা যায়, বলেন!’

সারা দেশে ‘কিশোর গ্যাং’ বা অপরাধ চক্রের দৌরাত্ম্যে মা-বাবারা সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত। চিন্তার একটি দিক হলো সন্তানের নিরাপত্তা। অন্য দিক হলো সন্তান বিপথে যায় কি না।

মায়েদের আতঙ্ক আরও বেড়েছে ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লায় ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার শিকার হওয়ার পর। পুলিশ বলছে, তার কাছে থাকা মুঠোফোন (আইফোন) ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা তার পূর্বপরিচিত।

অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ দুই কিশোর ‘আরজেড-৩৬’ নামক গ্যাংয়ের সদস্য ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর সন্তান লালনপালন বা প্যারেন্টিং আলোচনায় আসে। এ নিয়ে মায়েদের যে লড়াই, তা জানার চেষ্টা করে প্রথম আলো। অনেকের সঙ্গেই কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। তাঁর মধ্য থেকে দুই মা তাঁদের লড়াইয়ের গল্পটি নাম-ছবিসহ প্রকাশে রাজি হন।

দুই মায়ের একজন তামান্নার বাস মোহাম্মদপুরে, অন্যজন লাকি রহমানের বাস উত্তরায়। দুটি এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুরের অপরাধী চক্র নিয়ে আলোচনা বেশ পুরোনো। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশি কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়লে মোহাম্মদপুরে অপরাধ বেড়ে যায়।

‘মোহাম্মদপুর কি ঢাকার “সিটি অব গড”’ শিরোনামে গত ১৯ এপ্রিল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো। তাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বরাত দিয়ে বলা হয়, মোহাম্মদপুরে অর্ধশত অপরাধী দল সক্রিয়। এর মধ্যে কিশোর গ্যাংও রয়েছে।

ওশানের মা-বাবার মতে, মোহাম্মদপুরের অপরাধ কমছে না। এই পরিস্থিতিতে সন্তানকে নিরাপদ রাখতে ও সন্তানের বিপথে যাওয়া ঠেকাতে তাঁদের বাড়তি নজর দিতে হচ্ছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১১:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘কিশোর গ্যাংয়ের’ দৌরাত্ম্যের মধ্যে সন্তানকে রক্ষায় দুই মায়ের লড়াই

Update Time : ১১:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিশোর মোহাম্মদ ওশান (১৬) স্কুল থেকে বাসায় ফিরছিল। ঢাকার মোহাম্মদপুরে সেন্ট জোসেফ স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে সে।

ফেরার পথে ওশানকে অনুসরণ করছিলেন এক তরুণ। বারবার একটি কাগজ দেখার জন্য বলছিলেন। তবে তাঁর গতিবিধি ছিল সন্দেহজনক। ওশান একপর্যায়ে দৌড়ে একটি দোকানে ঢুকে যায় এবং দোকানে থাকা লোকদের সাহায্য চায়। দোকানের লোকজন বেরিয়ে এসে দেখে, ওই তরুণ সটকে পড়েছেন।

মাস তিনেক আগের এই ঘটনা উল্লেখ করে ওশানের মা তামান্না ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, ছেলের মুখে এটা শুনে তিনি ভয় পেয়েছিলেন। কারণ, এ ঘটনার আগে ছেলের দুই বন্ধু দুই ঘটনায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়। একজনের কাছ থেকে মুঠোফোন এবং একজনের কাছ থেকে সাইকেল ছিনিয়ে নেয় তাদের সমবয়সীরাই।

তামান্না ইয়াসমিন ও মো. এনায়েত উল্লাহ দম্পতির বাস মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে। ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে নিজের বাসায় বসে তামান্না যখন কথাগুলো বলছিলেন, তখন পাশেই বসা ছিলেন এনায়েত উল্লাহ ও ওশান। তামান্না বলেন, ‘খুব আতঙ্ক লাগে, কত আর চোখে চোখে রাখা যায়, বলেন!’

সারা দেশে ‘কিশোর গ্যাং’ বা অপরাধ চক্রের দৌরাত্ম্যে মা-বাবারা সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত। চিন্তার একটি দিক হলো সন্তানের নিরাপত্তা। অন্য দিক হলো সন্তান বিপথে যায় কি না।

মায়েদের আতঙ্ক আরও বেড়েছে ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লায় ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার শিকার হওয়ার পর। পুলিশ বলছে, তার কাছে থাকা মুঠোফোন (আইফোন) ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা তার পূর্বপরিচিত।

অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ দুই কিশোর ‘আরজেড-৩৬’ নামক গ্যাংয়ের সদস্য ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর সন্তান লালনপালন বা প্যারেন্টিং আলোচনায় আসে। এ নিয়ে মায়েদের যে লড়াই, তা জানার চেষ্টা করে প্রথম আলো। অনেকের সঙ্গেই কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। তাঁর মধ্য থেকে দুই মা তাঁদের লড়াইয়ের গল্পটি নাম-ছবিসহ প্রকাশে রাজি হন।

দুই মায়ের একজন তামান্নার বাস মোহাম্মদপুরে, অন্যজন লাকি রহমানের বাস উত্তরায়। দুটি এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুরের অপরাধী চক্র নিয়ে আলোচনা বেশ পুরোনো। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশি কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়লে মোহাম্মদপুরে অপরাধ বেড়ে যায়।

‘মোহাম্মদপুর কি ঢাকার “সিটি অব গড”’ শিরোনামে গত ১৯ এপ্রিল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো। তাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বরাত দিয়ে বলা হয়, মোহাম্মদপুরে অর্ধশত অপরাধী দল সক্রিয়। এর মধ্যে কিশোর গ্যাংও রয়েছে।

ওশানের মা-বাবার মতে, মোহাম্মদপুরের অপরাধ কমছে না। এই পরিস্থিতিতে সন্তানকে নিরাপদ রাখতে ও সন্তানের বিপথে যাওয়া ঠেকাতে তাঁদের বাড়তি নজর দিতে হচ্ছে।