অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া খ্রিষ্টযাগ শেষে রাঙ্গামাটিয়ায় কবরস্থানে সমাহিত
স্মৃতিতে স্মরণে উজ্জ্বল ফ্রান্সিস রিবেরু
দি মেট্রোপলিটান খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিঃ-এর ঋণদান কমিটির সেক্রেটারি উজ্জ্বল ফ্রান্সিস রিবেরু ২৭ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, বুধবার, সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঈশ্বরের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপাড়ে চলে গিয়েছেন। ঈশ্বর তাঁর আত্মার চিরশান্তি দান করুন। তিনি বিগত ২৩ মে, দিবাগত রাতে আকস্মিক স্ট্রোকজনিত কারণে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুতে হাউজিং সোসাইটি পরিবার গভীর শোকাহত। হাউজিং সোসাইটির চেয়ারম্যান মি. আগষ্টিন প্রতাপ গমেজ ও সেক্রেটারি মি. পেপিলন হেনরি পিউরীফিকেশন সোসাইটির সকল সদস্য ও ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে উজ্জ্বল ফ্রান্সিস রিবেরু’র মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।


মৃত্যু পরবর্তীতে মিরপুর প্রেরিতগণের রাণীর গির্জায় বিকাল ৪টায় প্রথম অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করা হয়। পবিত্র খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করেন খ্রীষ্টীয় যোগাযোগ কেন্দ্রের পরিচালক ও সাপ্তাহিক প্রতিবেশী’র সম্পাদক ফাদার বুলবুল আগষ্টিন রিবেরু তাকে সহায়তা করেন পাল পুরোহিত ফাদার বিমল ফ্রান্সিস গমেজ ও ফাদার কাকন কোড়াইয়া। পবিত্র এ অনুষ্ঠানে হাউজিং সোসাইটির কর্মকর্তাসহ ঢাকা ক্রেডিট, বাংলাদেশ খ্রীষ্টান এসোসিয়েশন, মোহম্মদপুর খ্রীষ্টান ক্রেডিট ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক খ্রিষ্টভক্ত অংশগ্রহণ করেন। খ্রিষ্টযাগ শেষে মরদেহ নিজ বাসায় নেয়া হয়।

২৮ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টায় হাউজিং সোসাইটির প্রধান কার্যালয়ে মরদেহ আনা হয়। এ সময়ে সোসাইটির পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি যথাযোগ্য মর্যাদায় শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। সোসাইটির কর্মকর্তা, কর্মীবৃন্দ ছাড়াও এ সময়ে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর সকাল সারে ১১টায় রাঙ্গামাটিয়া গির্জায় প্রয়াত উজ্জ্বল ফ্রান্সিস রিবেরু’র দ্বিতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া খ্রিষ্টযাগ অনুষ্ঠিত হয়। এতে পৌরহিত্য করেন সহকারী পাল পুরোহিত লিওন রোজারিও। খ্রিষ্টযাগ শেষে রাঙ্গামাটিয়া কবরস্থানে তাকে শায়িত করা হয়। পবিত্র এ অনুষ্ঠানে কালবের চেয়ারম্যান ও হাউজিং সোসাইটির সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মি. আগষ্টিন পিউরীফিকেশন, হাউজিং সোসাইটির চেয়ারম্যান মি. আগষ্টিন প্রতাপ গমেজ, ভাইস-চেয়ারম্যান মি. ডিউক পি. রোজারিও, সেক্রেটারি মি. পেপিলন হেনরি পিউরীফিকেশন, পরিচালক, অর্থ ও প্রশাসন মি. জেমস ডি.রোজারিও, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যবৃন্দ, ঋণদান কমিটি ও আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ কমিটির সকল কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রয়াত উজ্জ্বল ফ্রান্সিস রিবেরুর মরদেহ কবরস্থ করার পর তাঁর কবরে হাউজিং সোসাইটি ও কালবের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পনের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। এ সময়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী উপস্থিত থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।



৩০ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, শনিবার, প্রয়াত উজ্জ্বল ফ্রান্সিস রিবেরু’র স্মরণে নিজ বাড়ি রাঙ্গামাটিয়ায় মৃত্যুর তিনদিনের খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করা হয়। পবিত্র খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করেন ফাদার প্রশান্ত থিওটোনিয়াস রিবেরু। সোসাইটির পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান মি. আগষ্টিন প্রতাপ গমেজ, সেক্রেটারি মি. পেপিলন হেনরি পিউরীফিকেশন, পরিচালক, অর্থ ও প্রশাসন মি. জেমস ডি.রোজারিও সহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও বাংলাদেশ খ্রীষ্টান এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মি. নির্মল রোজারিও অংশগ্রহণ করেন। খ্রিষ্টযাগ শেষে প্রয়াত উজ্জ্বল রিবেরু’র স্মরণে স্মৃতিচারণ করা হয়। এতে সোসাইটির চেয়ারম্যান, পরিচালক,অর্থ ও প্রশাসন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ স্মৃতিচারণ করেন।


উজ্জ্বল ফ্রান্সিস রিবেরু ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ৭ সেপ্টেম্বর তারিখে রাঙ্গামাটিয়া ধর্মপল্লীর পিতা আন্দ্রেয়াস রিবেরু ও মাতা ফুলমনি রিবেরু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী মিলড্রেট শর্বরী রিবেরু, ছেলে উত্তমা তেরেজা ও উদয় টিটু রিবেরু ও বহ আত্মীয়-স্বজন রেখে গিয়েছেন। তিনি আনন্দনগর, দারুসসালাম রোডে বসবাস করতেন।

তিনি দি মেট্রোপলিটান খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাইজিং সোসাইটি লিঃ-এ সুদীর্ঘ সময় বিভিন্ন মেয়াদে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ হতে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ কমিটির একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এরপর ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ হতে ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ঋনদান কমিটির সদস্য, ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ হতে ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ হতে ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ ও ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ হতে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। এরপর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সোসাইটির ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে ঋণদান কমিটির সেক্রেটারি পদে জয়ী হয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন।
























