Dhaka , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি আদৌ মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে সোসাইটির কর্মীদের অংশগ্রহণে দুদিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন কুয়ালালামপুরে এশিয়ান ক্রেডিট ইউনিয়ন ফোরাম-২০২৬: বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ২৫ কোটি টাকার যে কৃষি প্রকল্পে সাফল্যের গল্প বানিয়ে বলতে হয় মাফিয়া গ্যাংয়ের হেনস্তার শিকার হওয়া প্রমাণ করে বাঁধন সঠিক পথে ছিলেন: তথ্য উপদেষ্টা শ্রদ্ধা ও প্রার্থনায় ঈশ্বরের সেবক আর্চবিশপ টি এ গাঙ্গুলীর ৪৯তম মহা প্রয়াণ দিবস পালিত ঈশ্বরের সেবক থিওটোনিয়াস অমল গাঙ্গুলীর ঊনপঞ্চাশতম মহা প্রয়াণ দিবস আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা মেসির ঢাকা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের নবনিযুক্ত যুগ্ম নিবন্ধকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ

পরীমনির সাথে অবৈধ সম্পর্ক, বাধ্যতামূলক অবসরে সেই এডিসি

রিপোর্ট: নীড় সংবাদ ডেস্ক
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা অনুবিভাগ) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ডিবির গুলশান বিভাগের এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গোলাম সাকলায়েন সরকারি দায়িত্বের বাইরে চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে নৈতিকতা বহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন। তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, জন্মদিন উদযাপন এবং সরকারি বাসভবনে স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সময় কাটানোর মতো ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

 

পরবর্তীতে গোলাম সাকলায়েন অভিযোগের জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। শুনানি ও প্রাথমিক পর্যালোচনার পর অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর দাখিল করা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন।

 

এরপর ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের জবাব, তদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে গুরুদণ্ড আরোপের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

 

পরে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ প্রদানের সুপারিশ করা হয়। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনও এ বিষয়ে সম্মতি প্রদান করে।

 

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি চলতি বছরের ১৭ জুন এ সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার ৪(৩)(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর দায়ে মো. গোলাম সাকলায়েনকে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ সূচক গুরুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

পরীমনির সাথে অবৈধ সম্পর্ক, বাধ্যতামূলক অবসরে সেই এডিসি

Update Time : ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা অনুবিভাগ) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ডিবির গুলশান বিভাগের এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গোলাম সাকলায়েন সরকারি দায়িত্বের বাইরে চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে নৈতিকতা বহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন। তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, জন্মদিন উদযাপন এবং সরকারি বাসভবনে স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সময় কাটানোর মতো ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

 

পরবর্তীতে গোলাম সাকলায়েন অভিযোগের জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। শুনানি ও প্রাথমিক পর্যালোচনার পর অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর দাখিল করা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন।

 

এরপর ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের জবাব, তদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে গুরুদণ্ড আরোপের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

 

পরে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ প্রদানের সুপারিশ করা হয়। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনও এ বিষয়ে সম্মতি প্রদান করে।

 

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি চলতি বছরের ১৭ জুন এ সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার ৪(৩)(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর দায়ে মো. গোলাম সাকলায়েনকে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ সূচক গুরুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।