Dhaka , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
‘সেবাকাল-২০২৬’ এর সমাপনী অনুষ্ঠান, পবিত্র খ্রিষ্টযাগ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ‘সেবাকাল-২০২৬’ এর সমাপনী অনুষ্ঠান, পবিত্র খ্রিষ্টযাগ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত শুলপুর ধর্মপল্লীতে সোসাইটির শিক্ষা সেমিনার, নিজস্ব ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূটি পালন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এ আই) ‘আমাদের প্রতিবন্ধকতা হল সত্যকে অনুধাবন করা।’ সোসাইটির বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি ধরেণ্ডায় ২৭তম বার্ষিক বিজ্ঞান মেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অবশেষে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন স্পিকার ভারতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাঝেই মোদির নতুন ঘোষণা অষ্ট্রেলিয়ার সিডনিতে শুরু হয়েছে বিশ্ব ক্রেডিট ইউনিয়ন সম্মেলন

কয়েক ঘণ্টা আগে হাসিমুখে ভিডিও, মিলল কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ঝুলন্ত মরদেহ

রিপোর্ট: নীড় সংবাদ ডেস্ক

ইনফ্লুয়েন্সার ও ভ্লগার সায়নী চক্রবর্তী। ফেসবুক থেকে

 

প্রয়াত হয়েছেন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ভ্লগার সায়নী চক্রবর্তী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন ‘সুন্দরী’র দিদি হিসেবে। পোষ্য গরু ‘সুন্দরী’কে নিয়ে বানানো তাঁর ভিডিও নিয়মিতই ছড়িয়ে পড়ত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে। হাসিখুশি মুখ, একদম ঘরোয়া উপস্থাপনা আর পোষ্যদের প্রতি অদ্ভুত মমতার কারণে খুব অল্প সময়েই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারী তৈরি করেছিলেন। হঠাৎ তাঁর মৃত্যুর খবরে শোক নেমে এসেছে অনুসারীদের মধ্যে।

 

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আত্মহত্যা করেছেন সায়নী। তবে কী কারণে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। একই সঙ্গে এক তরুণের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল বলেও জানা গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ইনফ্লুয়েন্সার ও ভ্লগার সায়নী চক্রবর্তী। ফেসবুক থেকে

নিজের ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সায়নীকে। পরে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় চুঁচুড়া ইমামপাড়া হাসপাতালে। সেখানেই ময়নাতদন্ত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। হুগলি গ্রামীণ পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তবে অভিযোগ করা হতে পারে বলে তাঁরা জেনেছেন।

সায়নীর জনপ্রিয়তার বড় কারণ ছিল তাঁর ভিডিওর সহজ-সরল উপস্থাপনা। সাজানো বা অতিরিক্ত নাটকীয় কিছু নয়, বরং নিজের দৈনন্দিন জীবন, পোষ্যদের সঙ্গে সময় কাটানো আর পরিবারের ছোট ছোট মুহূর্তই জায়গা পেত তাঁর ভ্লগে। বিশেষ করে ‘সুন্দরী’ নামের পোষ্য গরুটিকে নিয়ে তৈরি ভিডিওগুলো দর্শকের মধ্যে আলাদা জনপ্রিয়তা পায়। অনেকেই মন্তব্য করতেন, সায়নীর ভিডিও দেখলে মন ভালো হয়ে যায়।

 

সায়নীর মা মলি চক্রবর্তীরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলাদা পরিচিতি রয়েছে। মা-মেয়ে প্রায়ই একসঙ্গে ভিডিও বানাতেন। তাঁদের পেজে পোষ্যদের দেখাশোনা, বাড়ির খুনসুটি কিংবা সাধারণ দিনের নানা মুহূর্ত উঠে আসত। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেও মলি চক্রবর্তীর পেজ থেকে ভিডিও পোস্ট করা হয়েছিল। সেখানেও পোষ্যদেরই দেখা যায়। এরপরই আসে সায়নীর মৃত্যুর খবর।

জানা গেছে, সায়নী আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন। সম্প্রতি এলএলবি সম্পন্ন করেন। সমাবর্তনের কিছু ছবি ও ভিডিও–ও তিনি পোস্ট করেছিলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পড়াশোনার পাশাপাশি কনটেন্ট তৈরিও চালিয়ে যাচ্ছিলেন নিয়মিত। বাইক চালানো ছিল তাঁর খুব প্রিয়। জিনস কিংবা শাড়ি—দুই ধরনের পোশাকেই বাইক রাইডের ভিডিও পোস্ট করতেন তিনি। ভিডিওগুলো বেশ জনপ্রিয় ছিল।

 

মাঝেমধ্যে ব্রাইডাল মডেল হিসেবেও কাজ করতেন সায়নী। তাঁর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে কনের সাজে বেশ কিছু ছবি ও রিল রয়েছে। এমনকি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা তাঁর শেষ রিলটিও ছিল বিয়ের সাজে। সেখানে একটি পুরোনো বাংলা গানের সঙ্গে লিপ মিলিয়েছিলেন তিনি। সেই ভিডিও ঘিরেও এখন নানা আলোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

 

সায়নীর অনুসারীসংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে। তাঁর অনুসারীদের অনেকের কাছেই তিনি শুধু কনটেন্ট ক্রিয়েটর ছিলেন না, বরং এক পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তাই আচমকা তাঁর মৃত্যুতে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট দিচ্ছেন। কেউ লিখছেন, ‘ভিডিও দেখে কখনো বুঝিনি, মেয়েটা ভেতরে এত কষ্টে ছিল।’ আবার কেউ বলছেন, ‘সব সময় হাসিখুশি থাকা মানুষও ভেতরে ভেতরে লড়াই করতে পারেন।’

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

কয়েক ঘণ্টা আগে হাসিমুখে ভিডিও, মিলল কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ঝুলন্ত মরদেহ

Update Time : ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

 

প্রয়াত হয়েছেন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ভ্লগার সায়নী চক্রবর্তী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন ‘সুন্দরী’র দিদি হিসেবে। পোষ্য গরু ‘সুন্দরী’কে নিয়ে বানানো তাঁর ভিডিও নিয়মিতই ছড়িয়ে পড়ত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে। হাসিখুশি মুখ, একদম ঘরোয়া উপস্থাপনা আর পোষ্যদের প্রতি অদ্ভুত মমতার কারণে খুব অল্প সময়েই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারী তৈরি করেছিলেন। হঠাৎ তাঁর মৃত্যুর খবরে শোক নেমে এসেছে অনুসারীদের মধ্যে।

 

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আত্মহত্যা করেছেন সায়নী। তবে কী কারণে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। একই সঙ্গে এক তরুণের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল বলেও জানা গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ইনফ্লুয়েন্সার ও ভ্লগার সায়নী চক্রবর্তী। ফেসবুক থেকে

নিজের ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সায়নীকে। পরে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় চুঁচুড়া ইমামপাড়া হাসপাতালে। সেখানেই ময়নাতদন্ত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। হুগলি গ্রামীণ পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তবে অভিযোগ করা হতে পারে বলে তাঁরা জেনেছেন।

সায়নীর জনপ্রিয়তার বড় কারণ ছিল তাঁর ভিডিওর সহজ-সরল উপস্থাপনা। সাজানো বা অতিরিক্ত নাটকীয় কিছু নয়, বরং নিজের দৈনন্দিন জীবন, পোষ্যদের সঙ্গে সময় কাটানো আর পরিবারের ছোট ছোট মুহূর্তই জায়গা পেত তাঁর ভ্লগে। বিশেষ করে ‘সুন্দরী’ নামের পোষ্য গরুটিকে নিয়ে তৈরি ভিডিওগুলো দর্শকের মধ্যে আলাদা জনপ্রিয়তা পায়। অনেকেই মন্তব্য করতেন, সায়নীর ভিডিও দেখলে মন ভালো হয়ে যায়।

 

সায়নীর মা মলি চক্রবর্তীরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলাদা পরিচিতি রয়েছে। মা-মেয়ে প্রায়ই একসঙ্গে ভিডিও বানাতেন। তাঁদের পেজে পোষ্যদের দেখাশোনা, বাড়ির খুনসুটি কিংবা সাধারণ দিনের নানা মুহূর্ত উঠে আসত। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেও মলি চক্রবর্তীর পেজ থেকে ভিডিও পোস্ট করা হয়েছিল। সেখানেও পোষ্যদেরই দেখা যায়। এরপরই আসে সায়নীর মৃত্যুর খবর।

জানা গেছে, সায়নী আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন। সম্প্রতি এলএলবি সম্পন্ন করেন। সমাবর্তনের কিছু ছবি ও ভিডিও–ও তিনি পোস্ট করেছিলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পড়াশোনার পাশাপাশি কনটেন্ট তৈরিও চালিয়ে যাচ্ছিলেন নিয়মিত। বাইক চালানো ছিল তাঁর খুব প্রিয়। জিনস কিংবা শাড়ি—দুই ধরনের পোশাকেই বাইক রাইডের ভিডিও পোস্ট করতেন তিনি। ভিডিওগুলো বেশ জনপ্রিয় ছিল।

 

মাঝেমধ্যে ব্রাইডাল মডেল হিসেবেও কাজ করতেন সায়নী। তাঁর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে কনের সাজে বেশ কিছু ছবি ও রিল রয়েছে। এমনকি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা তাঁর শেষ রিলটিও ছিল বিয়ের সাজে। সেখানে একটি পুরোনো বাংলা গানের সঙ্গে লিপ মিলিয়েছিলেন তিনি। সেই ভিডিও ঘিরেও এখন নানা আলোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

 

সায়নীর অনুসারীসংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে। তাঁর অনুসারীদের অনেকের কাছেই তিনি শুধু কনটেন্ট ক্রিয়েটর ছিলেন না, বরং এক পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তাই আচমকা তাঁর মৃত্যুতে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট দিচ্ছেন। কেউ লিখছেন, ‘ভিডিও দেখে কখনো বুঝিনি, মেয়েটা ভেতরে এত কষ্টে ছিল।’ আবার কেউ বলছেন, ‘সব সময় হাসিখুশি থাকা মানুষও ভেতরে ভেতরে লড়াই করতে পারেন।’