Dhaka , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
‘সেবাকাল-২০২৬’ এর সমাপনী অনুষ্ঠান, পবিত্র খ্রিষ্টযাগ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ‘সেবাকাল-২০২৬’ এর সমাপনী অনুষ্ঠান, পবিত্র খ্রিষ্টযাগ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত শুলপুর ধর্মপল্লীতে সোসাইটির শিক্ষা সেমিনার, নিজস্ব ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূটি পালন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এ আই) ‘আমাদের প্রতিবন্ধকতা হল সত্যকে অনুধাবন করা।’ সোসাইটির বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি ধরেণ্ডায় ২৭তম বার্ষিক বিজ্ঞান মেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অবশেষে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন স্পিকার ভারতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাঝেই মোদির নতুন ঘোষণা অষ্ট্রেলিয়ার সিডনিতে শুরু হয়েছে বিশ্ব ক্রেডিট ইউনিয়ন সম্মেলন

ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬

ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

রিপোর্ট: নীড় সংবাদ ডেস্ক

নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে দুটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল। আগামী রোববার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন।

 

দ্বিতীয়ার্ধে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়ে ইংল্যান্ড দীর্ঘ সময় জয়ের স্বপ্ন দেখছিল। মনে হচ্ছিল, শিরোপাধারী আর্জেন্টিনার বিদায় নিশ্চিত। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

 

ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে সমতাসূচক গোল করেন এনজো ফের্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে বদলি খেলোয়াড় লাউতারো মার্তিনেস কাছ থেকে হেডে জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে পৌঁছে দেন।

 

মেসি এই ম্যাচে দুটি গোলেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রথম গোলের জোগান দেওয়ার পর দ্বিতীয় গোলেও তিনিই সুযোগ তৈরি করেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন পর্যন্ত তার সহায়তায় গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০টি, যা অন্তত গত ৬০ বছরের মধ্যে অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের তুলনায় অন্তত ছয়টি বেশি। এছাড়া ২০২২ সালের বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে টানা ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচে তিনি গোল করেছেন অথবা গোলে সহায়তা করেছেন, যা অন্তত ১৯৬৬ সালের পর থেকে দীর্ঘতম এমন ধারাবাহিকতা।

 

অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তে এগিয়ে থেকেও জয় ধরে রাখতে না পারায় ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো।

 

আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই লড়াই শুরুর আগেই স্টেডিয়ামে ছিল তুমুল উচ্ছ্বাস। দুই দলের সমর্থকেরা নিজেদের জাতীয় সংগীতের সময় প্রতিপক্ষকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। মাঠেও তার প্রতিফলন দেখা যায়। প্রথমার্ধে ঘন ঘন ফাউলের কারণে খেলা বারবার থেমে যায় এবং উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ ছাড়াই গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।

 

বিরতির পর ম্যাচে গতি বাড়ে। সমতায় ফেরার লক্ষ্যে আক্রমণের পর আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু তাদের একের পর এক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।

 

৬৯তম মিনিটে মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে নিকো গনসালেসের শট অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর ৭৬তম মিনিটে অ্যালেক্সিস মাক আলিস্টারের শক্তিশালী প্রচেষ্টাও ঠেকিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ আগে মাক আলিস্টারের আরেকটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

 

 

তবে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার অবিরাম চাপ আর সামলাতে পারেনি ইংল্যান্ড। ফের্নান্দেজের সমতাসূচক গোলের পর যোগ করা সময়ে মার্তিনেসের হেডে জয় নিশ্চিত হয়।

 

মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোতেও যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করেছিল আর্জেন্টিনা। ফলে বিশ্বকাপের এক আসরে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে একাধিক জয়সূচক গোল করা প্রথম দল হিসেবে ইতিহাস গড়েছে তারা।

 

নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ইস্ট রাদারফোর্ডে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দুই দল। এছাড়া ১৯৯২ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর এই প্রথম র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দুই দল বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

 

এটি হবে আর্জেন্টিনার সপ্তম বিশ্বকাপ ফাইনাল। চতুর্থ শিরোপা জিততে পারলে ইতালি ও ব্রাজিলের পর টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ী তৃতীয় দেশ হবে তারা।

 

অন্যদিকে, ইংল্যান্ড এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬

ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

Update Time : ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে দুটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল। আগামী রোববার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন।

 

দ্বিতীয়ার্ধে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়ে ইংল্যান্ড দীর্ঘ সময় জয়ের স্বপ্ন দেখছিল। মনে হচ্ছিল, শিরোপাধারী আর্জেন্টিনার বিদায় নিশ্চিত। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

 

ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে সমতাসূচক গোল করেন এনজো ফের্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে বদলি খেলোয়াড় লাউতারো মার্তিনেস কাছ থেকে হেডে জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে পৌঁছে দেন।

 

মেসি এই ম্যাচে দুটি গোলেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রথম গোলের জোগান দেওয়ার পর দ্বিতীয় গোলেও তিনিই সুযোগ তৈরি করেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন পর্যন্ত তার সহায়তায় গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০টি, যা অন্তত গত ৬০ বছরের মধ্যে অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের তুলনায় অন্তত ছয়টি বেশি। এছাড়া ২০২২ সালের বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে টানা ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচে তিনি গোল করেছেন অথবা গোলে সহায়তা করেছেন, যা অন্তত ১৯৬৬ সালের পর থেকে দীর্ঘতম এমন ধারাবাহিকতা।

 

অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তে এগিয়ে থেকেও জয় ধরে রাখতে না পারায় ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো।

 

আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই লড়াই শুরুর আগেই স্টেডিয়ামে ছিল তুমুল উচ্ছ্বাস। দুই দলের সমর্থকেরা নিজেদের জাতীয় সংগীতের সময় প্রতিপক্ষকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। মাঠেও তার প্রতিফলন দেখা যায়। প্রথমার্ধে ঘন ঘন ফাউলের কারণে খেলা বারবার থেমে যায় এবং উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ ছাড়াই গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।

 

বিরতির পর ম্যাচে গতি বাড়ে। সমতায় ফেরার লক্ষ্যে আক্রমণের পর আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু তাদের একের পর এক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।

 

৬৯তম মিনিটে মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে নিকো গনসালেসের শট অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর ৭৬তম মিনিটে অ্যালেক্সিস মাক আলিস্টারের শক্তিশালী প্রচেষ্টাও ঠেকিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ আগে মাক আলিস্টারের আরেকটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

 

 

তবে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার অবিরাম চাপ আর সামলাতে পারেনি ইংল্যান্ড। ফের্নান্দেজের সমতাসূচক গোলের পর যোগ করা সময়ে মার্তিনেসের হেডে জয় নিশ্চিত হয়।

 

মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোতেও যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করেছিল আর্জেন্টিনা। ফলে বিশ্বকাপের এক আসরে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে একাধিক জয়সূচক গোল করা প্রথম দল হিসেবে ইতিহাস গড়েছে তারা।

 

নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ইস্ট রাদারফোর্ডে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দুই দল। এছাড়া ১৯৯২ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর এই প্রথম র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দুই দল বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

 

এটি হবে আর্জেন্টিনার সপ্তম বিশ্বকাপ ফাইনাল। চতুর্থ শিরোপা জিততে পারলে ইতালি ও ব্রাজিলের পর টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ী তৃতীয় দেশ হবে তারা।

 

অন্যদিকে, ইংল্যান্ড এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে।